মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইসিসি

আবুধাবিতে সিরিজ বাতিল করল ইংল্যান্ড

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইসিসি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইসিসি। ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের ফলে আকাশপথ বন্ধ হয়েছে। তাতে বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটার কারণে​ চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্বিঘ্নে শেষ করতে আইসিসি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত পর্যবেক্ষণ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আবুধাবিতে পাকিস্তান শাহিন্সের বিপক্ষে ইংল্যান্ড লায়ন্সের ৫০ ওভারের দ্বিতীয় ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

এমন পরিস্থিতিতে ইসিবি নিশ্চিত করেছে, সরকারের নির্দেশনা মেনে আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ম্যাচটি হচ্ছে না। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের দল ও স্টাফদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সবার আগে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আমরা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তাদের নির্দেশনা মানা হচ্ছে।’

ইংল্যান্ড লায়ন্স ও পাকিস্তান শাহিন্সের ম্যাচ বাতিলের পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে তাদের নারী দলের আবুধাবি সফরও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের খেলা পরিকল্পনা মতোই মাঠে গড়াবে। দলটি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তারা যাবে ম্যাচ ভেন্যু মুম্বাইয়ে।

অন্যদিকে চলতি​ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটি তার শেষ সপ্তাহে। এমন সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজতর করতে আপদকালীন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ​আইসিসি জানিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্রমবিকাশমান পরিস্থিতি’ পর্যবেক্ষণ করছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সকল অংশীজনদের ভ্রমণ, লজিস্টিকস এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে ব্যাপক আপদকালীন পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে।’

​গত শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পাল্টা হামলা হয়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের আকাশপথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাতে এই অঞ্চলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত করছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করতে বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

​আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সাথে টুর্নামেন্ট পরিচালনার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে আইসিসি স্বীকার করছে যে বিপুল সংখ্যক কর্মী—যার মধ্যে খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিশিয়াল, ব্রডকাস্ট টিম এবং ইভেন্ট স্টাফ রয়েছেন-তারা ইভেন্টে তাদের দায়িত্ব শেষ করে নিজ দেশে ফেরার জন্য ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হাব বিমানবন্দরগুলোর ওপর, বিশেষ করে দুবাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।’

আইসিসি ট্রাভেল এবং লজিস্টিকস টিম ইউরোপীয়, দক্ষিণ এশীয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় হাবগুলোর মাধ্যমে সংযোগসহ বিকল্প রুটিং অপশনগুলো শনাক্ত ও নিশ্চিত করতে প্রধান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারগুলোর (এয়ারলাইনস) সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে রিয়েল-টাইম পরামর্শ প্রদান করবেন। একটি ডেডিকেটেড আইসিসি ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও সক্রিয় করা হয়েছে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ পর্যায়ে। আজ রোববার শেষ সুপার এইট গেমগুলো অনুষ্ঠিত হবে, যার পরে ৪ এবং ৫ মার্চ সেমিফাইনাল এবং ৮ মার্চ ফাইনাল হবে।

Exit mobile version