আইসিসি’র রেভিনিউ শেয়ারিং ও বাংলাদেশ ক্রিকেট

আইসিসি'র রেভিনিউ শেয়ারিং ও বাংলাদেশ ক্রিকেট

আইসিসি'র রেভিনিউ শেয়ারিং ও বাংলাদেশ ক্রিকেট

আইসিসি’র রেভিনিউ শেয়ারিং ও বাংলাদেশ ক্রিকেট (BCB) এর আয় প্রধানত নিচের উৎস সমূহ থেকে আসে।

আইসিসি’র রেভিনিউ শেয়ারিং ও বাংলাদেশ ক্রিকেট

আইসিসি রেভিনিউ – বিসিবির প্রকৃত নেট আয়ের মূল উৎস

উল্লিখিত খাত সমূহ থেকে BCB র বার্ষিক সর্বমোট আয় আনুমানিক ৩৫০ কোটি টাকা। তবে কোনো বছর যদি এশিয়া কাপের মতো বৈশ্বিক কোনো ইভেন্ট বাংলাদেশে আয়োজিত হয় (যেমনটি হয়েছিল সম্ভবত ২০২২-২৩ সালে) সে আয় ২০-২৫% বাড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, আইসিসির রেভিনিউ শেয়ারের অর্থ ছাড়া বাকী খাত থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৬০-৭০ ভাগ ম্যাচ আয়োজনসহ অন্যান্য খাতে বিসিবির খরচ হয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যেমন : জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনসহ ঘরোয়া ক্রিকেট লীগ গুলোতে অধিকাংশ সময় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হয়ে যাওয়ায় প্রাপ্ত রেভিনিউকে নেট আয় বলে বিবেচনা করা যায় না। সে বিবেচনায় আইসিসি থেকে প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের পুরোটাই নেট আয়, কারণ তাতে কোনো খরচ নেই, উপরন্তু সে অর্থ ব্যাংকে এফডিআর রেখে একটি ভালো অঙ্কের আয় আসে ইন্টারেস্ট থেকে।

আইসিসির মোট আয়ের তুলনায় বিসিবির প্রাপ্তি

(২০২৪–২০২৭) বার্ষিক ভিত্তিতে আইসিসির বার্ষিক মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় $ ৬০০ মিলিয়ন। আইসিসি’র কেন্দ্রীয় আয়ের অংশ হিসেবে BCB প্রতি বছর প্রায় $ ২৬.৭৪ মিলিয়ন অর্থাৎ প্রায় ২৮০-২৯০ কোটি টাকা রেভিনিউ শেয়ারিং পায়, যেটা আইসিসি’র মোট বার্ষিক রাজস্বের ৪.৪৬% এর কাছাকাছি।

ICC র নতুন বিতরণ মডেল (২০২৪–২০২৭) অনুযায়ী, ক্রিকেট বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আইসিসি থেকে প্রতি বছর আনুমানিক নিম্নোক্ত হারে শেয়ারিং অর্থ লাভ করে থাকে।

অর্থাৎ, ১২টি ফুল মেম্বার বোর্ড মোটের প্রায় ৮৮.৮% আয় ভাগ করে নেয় এবং বাকি ১১.২% সহযোগী (Associate) সব দেশগুলো মিলিয়ে পায়।

ICC র নতুন বিতরণ মডেল (২০২৪–২০২৭) অনুযায়ী

বড় বোর্ডগুলো (বিশেষত ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া) বেশি শেয়ার পায় কারণ তারা মিডিয়া রাইটস ও বাণিজ্যিক আয়ের ক্ষেত্রে বেশি অবদান রাখে।

উক্ত আয় ICC র মিডিয়া রাইটস, স্পনসর, শিপ ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় আয় থেকে আসে এবং তার একটি নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে সদস্য বোর্ডগুলোকে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৭০/৮০ শতাংশ ICC র এই রেভিনিউ শেয়ারিং থেকেই আসে। যদিও এই আয় কোনো অনুদান নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দলের ভালো ফলাফলের জন্য এই অর্থ আয় করে থাকে।

তামিমকে নিয়ে মন্তব্য করে নোটিশ পেলেন বিসিবি পরিচালক

২০১১ সালের একটি অবহেলিত প্রস্তাব

২০১১ সালে আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভায় ভারতীয় ক্রিকেটারদের বিপিএল খেলার ছাড়পত্র প্রদানের শর্তে, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদেরকে আইপিএল খেলার ছাড়পত্র দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। তখন তা অনেকের কাছেই একটি হাস্যকর প্রস্তাব ছিল। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের শর্তহীন অংশগ্রহণ সুবাদে আইপিএল আজ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে পরিণত হয়েছে। যেটা অন্যান্য দেশগুলো না চাইলে হতো কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

ভারত বিরোধিতার সাথে যারা আইসিসির বিরোধিতাকে ঘুলিয়ে ফেলছেন তাদের জানার সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা অবশ্যই আমাদের কূটনৈতিক দক্ষতা দিয়ে, মাথা উঁচু করে আইসিসি এবং তার সদস্য দেশগুলোর সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করে নেবো।

ক্রিকেট কূটনীতিতে বাংলাদেশ

মোস্তাফিজ ইস্যুতে প্রয়োজনে ভারত ছাড়া আইসিসির অন্যান্য সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন আদায়ের জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করবো। বিগত বিসিবির অবৈধ নির্বাচনের বৈধতা আদায় করে নিতে আইসিসি’র শীর্ষ কর্তা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গৌরবের সাথে বর্তমান বোর্ড পরিচালক ইফতেখার মিটুর দূতিয়ালির বিষয়ে আমরা অনেকেই জানি।

নিজেদের হীন স্বার্থে তারা তখন ভারতীয়দের সমর্থন আদায়ে তৎপর ছিল, আর এখন মোস্তাফিজ ইস্যুতে তাদের ভূমিকা কি মানুষ জানতে চাইতেই পারে। এক্ষেত্রে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির সাথে বিরোধ করে যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংস করে জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে চলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সব দেশ প্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া আজ সময়ের দাবি।

লেখক পরিচিতি:
সাবেক বিসিবি পরিচালক।

Exit mobile version