বিসিসিআইয়ের কথায় চলে আইসিসি-হার্মার

বিসিসিআইয়ের কথায় চলে আইসিসি-হার্মার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে বিসিসিআই। এমন মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অফ-স্পিনার সাইমন হার্মার। বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তির কাঠামো নিয়ে একেবারে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ভারতের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা এতটাই প্রভাবশালী যে বৈশ্বিক ক্রিকেটে তাদের আধিপত্য এখনো অটুট।

গত বছর লর্ডসে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা শিরোপা জিতলেও, হার্মারের মতে এই জয় বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তির ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।

তিনি সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ভারতের বাণিজ্যিক শক্তির কারণেই সব ক্ষমতা তাদের হাতে। ভারতের বিসিসিআই-ই আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাজ শুধু নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো ঠিক রাখা। শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতাই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়।’

হার্মার সেই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্য ছিলেন, যারা শুবমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতকে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। বর্তমান দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দলগত শক্তির ওপর দাঁড়ানো ইউনিট হিসেবে দেখেন।

দক্ষিণ প্রধান কোচ শুকরি কনরাড এবং অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার অধীনে দলটি তারকানির্ভর না হয়ে বরং সমষ্টিগত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল, যা হার্মারের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। এছাড়া তিনি বলেন, ‘এই দলটি তার বেশি শক্তিশালী। কয়েকজন সুপারস্টার থাকলেও মূল শক্তি দলগত পারফরম্যান্স।’

কোচ কনরাডের স্পষ্টভাষী নেতৃত্বও তাকে মুগ্ধ করেছে,‘তিনি (কনরাড) যদি মনে করেন আপনি ভালো পারফরম্যান্স করছেন না, তা সরাসরি বলে দেন। আমি এটা সম্মান করি।’ ইংল্যান্ডের স্পিনারদের প্রসঙ্গে হার্মার কিছুটা সমালোচনামূলক হলেও বাস্তবতাও তুলে ধরেছেন। তার মতে, সেখানকার কন্ডিশন ও কাউন্টি কাঠামো স্পিনারদের প্রাধান্য কমিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, ‘ইংল্যান্ডে স্পিনারদের প্রায়ই প্রথমে ভাবনাই নেওয়া হয় না।” যদিও লিয়াম ডসন ও জ্যাক লিচের মতো খেলোয়াড়দের দক্ষতা তিনি স্বীকার করেছেন, তবুও মনে করেন সিস্টেমগত সীমাবদ্ধতা তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।

কাউন্টি দল নিয়ে বলেন,‘ ১৮টি কাউন্টি দল থাকলেও কয়টিতে স্পিন বোলিং কোচ আছে? খুব বেশি হলে দুই-তিনটি, ইংল্যান্ডে স্পিনারদের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে বলেছেন হার্মার।

তার মতে, সমস্যা শুধু অবকাঠামো নয়; মানসিকতাও একটি বড় ফ্যাক্টর। চাপের মুহূর্তে লড়াই করার মানসিকতা না থাকলে প্রতিভা মূল্যহীন হয়ে যায়। কাউন্টি ক্রিকেট বিশ্বে সমাদৃত হলেও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন হার্মার। ‘অনেক খেলোয়াড় শুধু গড়পড়তা পারফরম্যান্স করে ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছে, এটা কাউন্টি সিস্টেমের একটি বড় দুর্বলতা।’

Exit mobile version