রোমাঞ্চকর এল ক্লাসিকোতে এবার স্প্যানিশ লা লিগার শিরোপার ফয়সালা হতে চলেছে। বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে এই মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে আজ রাতের ম্যাচ থেকে একটি পয়েন্ট অর্জন করলেই চ্যাম্পিয়ন হবে কাতালানরা। ইতিহাসে এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার এল ক্লাসিকো ম্যাচ দিয়ে শিরোপা নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা।
গত অক্টোবরে রোমাঞ্চকর এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু গত বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দুই দলের পাঁচবারের সাক্ষাতে ওই একবারই জিতেছে রিয়াল। এ ছাড়া দুইবার স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং একবার করে কোপা দেল রে ও লা লিগায় জিতেছে বার্সাই।
এবারের লড়াইটি ভিন্ন মাত্রা পেতে চলেছে। কারণ, বার্সা যদি ড্র করে তাহলেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যদি জিতে যায় রিয়াল, সেক্ষেত্রে কাতালানদের শিরোপা জেতার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো। সেই চেষ্টা ভালোভাবেই করবে রিয়াল, এতে সন্দেহ নেই।
যদিও ম্যাচটি নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে খেলবে বার্সেলোনা, কিন্তু কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেছেন,
এটি একটি এল ক্লাসিকো, তারাও সেটাই খেলবে এবং সর্বপ্রকার চেষ্টা করবে এই ম্যাচের পর বার্সেলোনাকে শিরোপা জেতা ঠেকাতে।
ঐতিহাসিক কেন এই লড়াই?
এই মুহুর্তে চরম প্রতিপক্ষ লস ব্লাংকোদের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মঞ্চ তৈরি করেই রেখেছে কাতালানরা। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও শিরোপা জিততে চায় জানিয়েছেন ফ্লিক,‘সবার লক্ষ্যটা একই এবং সেদিকে সবাই মনোযোগী। আমরা দ্বিতীয়বার শিরোপাটা জিততে চাই। আমাদের এটাই একমাত্র চাওয়া।
যদি বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় এই ম্যাচের পর, সেক্ষেত্রে ফিরে আসবে ৯৪ বছর আগের ইতিহাস। লা লিগার ইতিহাসে প্রথমবার রিয়াল চ্যাম্পিয়ন হয় ১৯৩১-৩২ মৌসুমে। সেবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়। ইতিহাসের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোয় এবার শিরোপার ফয়সালা হতে যাচ্ছে।
রোমাঞ্চকর এল ক্লাসিকোতে নামার আগে দুই দলের অবস্থা
বার্সেলোনার মূল শক্তি লামিনে ইয়ামাল অবশ্য এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না। তবে স্কোয়াডের বাকিরা বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ইনজুরি কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন ডিফেন্ডার আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন। চোট কাটিয়ে গত সপ্তাহেই বেঞ্চে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়া।
অন্যদিকে, সমস্যায় জর্জরিত রিয়ালের ইনজুরির ধাক্কায় খেলতে না পারার লম্বা তালিকায় আছেন দানি কারভাহাল, রদ্রিগো, আরদা গুলার, ফারল্যান্ড মেন্ডি এবং এদের মিলিতাও। এছাড়া হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে নেমে সেরাটা দিতে পারবেন কিনা কিলিয়ান এমবাপ্পে তা নিয়ে চিন্তা আছেই। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ফিট হয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত এটাই শুধু তাদের জন্য ভালো খবর।
এসবের সঙ্গে কোচ আলভারো আরবেলোয়ার মেজাজ তিরিক্ষি করে দিয়েছে দলের দুই সতীর্থ ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির মারামারির ঘটনা। মাথায় আঘাতের কারণে দুই সপ্তাহ খেলতে পারবেন না ভালভার্দে, তবে চুয়ামেনি খেলবেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আরবেলোয়া বলেছেন,
ড্রেসিং রুমের ঘটনা প্রকাশ্যে আসাটা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বিশ্বসঘাতকতার সামিল।
এমন অবস্থায় বার্সাকে তাদের মাঠে কী হারাতে পারবে রিয়াল, এমন আলোচনাই চারিদিকে। আরবেলোয়া বলেছেন,
টানা দুই মৌসুম শিরোপা বঞ্চিত হয়ে থাকাটা খেলোয়াড়দের জন্য সহজ নয়। তবে এমনটা হয়েই থাকে। আর ফ্লিক মনে করেন, ভেতরে ভেতরে যতই দ্বন্দ্ব থাক রিয়ালে সেটি বর্তমান সময়ের জন্য খুবই স্বাভাবিক ঘটনা এবং তাদের বিপক্ষে লড়াই সহজ হবে না।
বার্সেলোনার রেকর্ড গড়ার সুযোগ
বার্সেলোনা যদি এই মৌসুমের শেষ চারটি লিগ ম্যাচই জিততে পারে, তবে তারা লিগের সর্বকালীন ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড স্পর্শ করবে। এই মাইলফলকটি প্রথম গড়েছিল ২০১১-১২ মৌসুমে হোসে মরিনিয়োর রিয়াল মাদ্রিদ, যার পরের মৌসুমেই পুনরাবৃত্তি করেছিল টিটো ভিলানোভার বার্সা।
এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত বার্সার ২৯টি জয় যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। তারা যদি শেষ চারটি ম্যাচ জিততে পারে, তবে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩২টি জয়ের রেকর্ড ভাঙবে তারা, যা বর্তমানে মরিনহো ও ভিলানোভার দলের দখলে রয়েছে। যদি বার্সা মাদ্রিদকে হারায় এবং পরের সপ্তাহে রিয়াল বেটিসকেও পরাজিত করে, তবে তারা হবে ৩৮ ম্যাচের লা লিগা ইতিহাসে ঘরের মাঠের সবকটি ম্যাচ জেতা প্রথম দল।
এই দুই ক্লাব এ পর্যন্ত ২৬৩ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে; যার মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে ১০৭টি ম্যাচ, বার্সেলোনা জিতেছে ১০৫টি এবং ৫১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
