এবার বোমা ফাটালেন ভারতের আলোচিত নারী ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগরা। তার দাবী, ‘ভারত চাইলে আইসিসি ঠিকই বাংলাদেশকে নিরাপদ ভেন্যুতে খেলার ব্যবস্থা করে দিতো।অর্থাৎ , ভারত চাইলে আইসিসির বিকল্প ভেন্যু পেত বাংলাদেশ । ’ দ্য ওয়ালের সাথে আলোচনায় শারদা আরও বলেন, ‘বিসিসিআই যদি বলতো, আমরা পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশে খেলতে যাবো না, তবে আইসিসি শতভাগ উদ্যোগ নিয়ে ভারতকে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার ব্যবস্থা করে দিতো। আলোচনার এক পর্যায়ে হাসি দিয়ে শারদা বলেন,
হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্নে আমিও হাইপোথেটিক্যাল উত্তর দিতে পারি, কি বলেন?

ভারতের উগ্রবাদী হিন্দুদের হুমকির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়। ফলে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স কাটার মাস্টার মোস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেয়। এরই রেশ ধরে নিরাপত্তার শংকার কারণে বাংলাদেশও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ। । বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করলেও তা রাখেনি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসি’র এমন আচরণে পুরো ক্রিকেট দুনিয়ায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা আইসিসি’র সমালোচনা করেছেন। এমনটি সুযোগ পাওয়া স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়াকে ‘যথাযথ হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
দুই টুর্নামেন্ট, দুই নীতি – আইসিসির দ্বিমুখী আচরণ
বাংলাদেশকে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে যে প্রক্রিয়ায় বাদ দেয়া হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সে পথে হাটেনি আইসিসি। অথচ, উপযুক্ত কারণ ছাড়াই পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে যায়নি ভারত। সেই সময় তাদের জন্য বিকল্প ভেন্যুর ব্যবস্থা করেছিলো আইসিসি। শুধু তাই নয় এই বিষয়ে তারা কোন ভূমিকাই নেয়নি। শুধু ভারতের চাওয়া পূরণ করেছে। সেই টুর্নামেন্ট হয়েছিল হাইব্রিড মডেলে। পুরো টুর্নামেন্টে অন্য দেশগুলো যেখানে বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলেছে তখন ভারত কেবল নির্দিষ্ট একটি হোটেলে ও একটি মাত্র ভেন্যুতে খেলে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
সেই সময়ও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ভারতের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও বিষয়টিতে মুখ খুলেছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
ভারতের প্রভাবেই নীরব অন্য বোর্ডগুলো?
আইসিসি’তে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, বিসিসিআই এর প্রভাব আছে দাবি করে শারদা বলেন, আইপিএল থেকে বাংলাদেশী ক্রিকেটারকে বাদ দেয়ার পর যখন আর সামাল দেয়া গেলো না তখন বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণে নিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডই উঠেপড়ে লাগলো। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইসিসিতে ভারতের প্রভাব এতোটাই বেশি যে, বাকি বোর্ডগুলোও তাদের মতের বাইরে যায়নি। ফলে সবকিছুই এক জায়গায় এসে মিলিত হয়েছে এবং আইসিসিকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
শারদা আরও বলেন,
খুবই পরিষ্কারভাবে এখানে একটি পার্থক্য গড়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতে আসতে চায়নি ফলে আইসিসি তাদের বাদই দিয়ে দিলো। ক্রিকেটের বিশ্বায়নের স্লোগান তুলে মুখে ফেনা তোলা আইসিসি এই ঘটনায় কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে তার আগে আইসিসি তাদেরকে নিরপেক্ষতা হুমকির মুখে ফেলে দিলো।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য যেকোনো ডিসিপ্লিনে বিষয়টিকে নিরপেক্ষভাবে দেখা হত। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি, আইওসি’র প্রসঙ্গ টেনে শারদা বলেন, মানবাধিকার লংঘনের দায়ে কোন দেশ বহিস্কৃত হলেও সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটরা আইওসি’র পতাকা নিয়ে খেলার সুযোগ পায়। অথচ এখানে আপনি একটা দেশকেই বাদ দিয়ে দিলেন। এমন একটি দেশ যাদের প্রায় ২০ কোটির মত মানুষ রয়েছে এবং অনেক দর্শক রয়েছে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩






















