আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রায় দেড় লাখ দর্শকের সামনে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান করেছে তারা। নিউজিল্যান্ডকে তাই প্রথমবার শিরোপা জেতার জন্য রেকর্ড রান তাড়া করতে হবে। কারণ এটাই এখন পর্যন্ত টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ দলীয় রান।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। অভিষেক শর্মার ফর্ম নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকলেও তাকে একাদশে রাখা হয়। এমনকি সেমিফাইনালে অত্যন্ত খরুচে স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীকেও বাদ দেওয়া হয়নি। সেমির অপরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়েই নামে ভারত।
অভিষেক তেল-বেগুনে জ্বলে উঠেছেন প্রথম থেকেই। তার সঙ্গে ফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসনও ধ্বংসাত্মক মেজাজে ব্যাট চালিয়েছেন। ফলে পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারেই ওঠে ৯২ রান। এটি টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাওয়ার প্লে থেকে সর্বাধিক রানের রেকর্ড। গত বিশ্বকাপেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক উইকেটে ৯২ রান করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
ভারতের রেকর্ডের ফোয়ারা
আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে ভারত ওপেনিং জুটি থেকে পায় ৯৮ রান। এটি টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেরা জুটি। ২০০৯ সালের ফাইনালে পাকিস্তানের কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসান ৪৮ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছিলেন।
মাত্র ১৮ বলেই ফিফটি করেন অভিষেক। এটি টি-২০ বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড। এর আগে চলতি আসরের দুই সেমিতে ১৯ বলে ফিফটি করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন ও ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল।
মাত্র ৭.২ ওভারে দলীয় শতরান পেরিয়ে যায় ভারত। এটি কোনো দলের টি-২০ বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম দলীয় শতরান। এবার সেমিতে নিউজিল্যান্ড ৭.৫ ওভারে দলীয় একশ’ করে কলকাতায়। সেই রেকর্ড তিন দিনেই ভেঙে গেল।
অভিষেক ২১ বলে ৬টি চার, ৩টি ছক্কায় ৫২ রানে রাচিন রবীন্দ্রর স্পিনে কট বিহাইন্ড হন। তবে এরপরও ঝড় থামেনি। ১০ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তোলে ভারত। প্রথম ১০ ওভারে বিশ্বকাপের নকআউটে এটাই সর্বোচ্চ। এছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা। এর আগে ২০১৪ সালে সিলেটে নেদারল্যান্ডস তিন উইকেটে ১৩২ রান করেছিল প্রথম ১০ ওভারে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।
স্যামসনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ঈশান কিষাণ ১০৫ রানের জুটি গড়েন। স্যামসন টানা তৃতীয় ফিফটি করে শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৮৯ রানে আউট হন। টি-২০ বিশ্বকাপে টানা ৩ ম্যাচে ৮০ রানের বেশি করা মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার স্যামসন। এর আগে শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে এমন কীর্তি দেখিয়েছেন। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটেই এমন ঘটনা মাত্র তিনটি। আরেকটি করেছেন ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাকিওন।
পরে দ্রুত কিছু উইকেটে হারিয়েছে ভারত। কিষাণও ২৫ বলে ৪টি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ৫৪ রানে আউট হয়েছেন। আর শিভম দুবে ৮ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত। আহমেদাবাদে এটাই সর্বোচ্চ দলীয় রান। টি-২০ বিশ্বকাপে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।
নিউজিল্যান্ডের পেস অলরাউন্ডার জেমস নিশাম ম্যাজিক দেখিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটারদের ঝড়ের মুখে। তিনি ৩ ওভার বোলিং করে ২২ রানে নেন ৩টি উইকেট। তবে শেষ ওভারে খরচ করেন ২৪ রান।
