টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। রেকর্ড তৃতীয়বার এবং প্রথম দল হিসেবে টানা দ্বিতীয়বার এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছে তারা। আর দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে আবার কিউইরা রানার্সআপ হল।
ভারতের জন্য ফাইনাল ম্যাচটি ছিল রেকর্ডময়। টস জিতেও ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠালে তারা ফাইনালের রেকর্ড ৫ উইকেটে ২৫৫ রান করে। এটি টি-২০ বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান। অভিষেক শর্মা মাত্র ১৮ বলে ফিফটি করে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি করেন। জবাবে জাসপ্রিত বুমরাহর বিধ্বংসী বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড ১৯ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৫৯ রানে।
বিশ্বকাপে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড এটি। এই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার গৌরব অর্জন করল। আর প্রথম দেশ হিসেবে শিরোপাও ধরে রাখল ভারত।

দুই দলের মূল পার্থক্য হয়েছে পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে। ভারত বিশ্বকাপের রেকর্ড ৯২ রান করে বিনা উইকেটে। আর নিউজিল্যান্ড পাওয়ার প্লে থেকে পায় ৩টি উইকেট হারিয়ে ৫২ রান। খুব বড় ইনিংস কেউ খেলতে না পারায় কিউইরা আর সেটি মেকআপ করতে পারেনি।
টর্নেডো ব্যাটিংয়ে স্যামসন-অভিষেকের রেকর্ডের ফুলঝুড়ি
টস জেতার পরও ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েই সবচেয়ে বড় ভুল করেছে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লে’র রেকর্ড সংগ্রহের পর উদ্বোধনী জুটিতে ৯৮ রান করেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। এটি টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেরা জুটি। ২০০৯ সালের ফাইনালে পাকিস্তানের কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসান ৪৮ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছিলেন।
মাত্র ১৮ বলেই ফিফটি করেন অভিষেক। এটি টি-২০ বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড। মাত্র ৭.২ ওভারে দলীয় শতরান পেরিয়ে যায় ভারত। এটি কোনো দলের টি-২০ বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে দ্রুততম দলীয় শতরান।

অভিষেক ২১ বলে ৬টি চার, ৩টি ছক্কায় ৫২ রানে রাচিন রবীন্দ্রর স্পিনে কট বিহাইন্ড হন। তবে এরপরও ঝড় থামেনি। স্যামসনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ঈশান কিষাণ ১০৫ রানের জুটি গড়েন। স্যামসন টানা তৃতীয় ফিফটি করে শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৮৯ রানে আউট হন।
পরে দ্রুত কিছু উইকেটে হারিয়েছে ভারত। কিষাণও ২৫ বলে ৪টি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ৫৪ রানে আউট হয়েছেন। আর শিভম দুবে ৮ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত। নিউজিল্যান্ডের পেস অলরাউন্ডার জেমস নিশাম ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।
নিউজিল্যান্ডকে ধসিয়ে দিলেন বুমরাহ-অক্ষর
জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ৩১ রানের ওপেনিং জুটির পর ফিন অ্যালেন (৭ বলে ৯) সাজঘরে ফেরেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৭২ রানেই ৫ ব্যাটারকে হারিয়ে ফেলে কিউইরা। ততোক্ষণে ৮.১ ওভার পেরিয়েছে। টিম সাইফার্টও ২৬ বলে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫২ রান করে বিদায় নেন।

এই পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের পরাজয়টা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে শুধু মিচেল স্যান্টনার ও ড্যারিল মিচেল ব্যতীত আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছুতে পারেননি। জাসপ্রিত বুমরাহ ও অক্ষর প্যাটেল কিউইদের সর্বনাশ করেছেন। শেষ পর্যন্ত এক ওভার বাকি থাকতেই তারা ১৫৯ রানে থেমে যায়।
স্যান্টনার ৩৫ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৩ রান করেন। বুমরাহ চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪টি এবং অক্ষর তিন ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত- ২৫৫/৫; ২০ ওভার (স্যামসন ৮৯, কিষাণ ৫৪, অভিষেক ৫২, দুবে ২৬*; নিশাম ৩/৪৬)।
নিউজিল্যান্ড- ১৫৯/১০; ১৯ ওভার (সাইফার্ট ৫২, স্যান্টনার ৪৩, মিচেল ১৭; বুমরাহ ৪/১৫, অক্ষর ৩/২৭)।
ফল : ভারত ৯৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ফাইনাল : জাসপ্রিত বুমরাহ।
টুর্নামেন্ট : ভারত বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন।
প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট : সঞ্জু স্যামসন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩











