দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ ১৫ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে উড়ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হকি প্রতিযোগিতার পতাকা। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ঢাকা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ম্যাচে ৮-০ গোলেরে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বছরের পর বছর বন্ধ থাকা এই প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার পেছনে রয়েছে ডাকসু ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেনের অদম্য পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার গল্প।
আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা চলাকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় মঞ্চটি কার্যত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ চলাকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী মাঠে ঢুকে পড়ে এবং ঢাবির ক্রিকেটারদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঢাবির ৫/৬ জন ক্রিকেটার আহত হয়।
ডাকসু ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এই প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করাকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নেন আরমান হোসেন। কিন্তু পথ মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর ভাষায়,
“বাজেট না থাকায় অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে, যা জীবনে আগে কখনো ফেস করিনি।”
তবুও থামেননি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান, ইউজিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কুয়েটের উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছেন তিনি। কুয়েটে ছাত্র সংঘর্ষের কারণে উপাচার্য পরিবর্তন হলেও দমে যাননি। নতুন উপাচার্যের সাথেও আলোচনা চালিয়ে যান এবং ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্ব অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন।
দীর্ঘ ছয় মাসের এই অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে গত ৪ মার্চ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করতে প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১৫ এপ্রিল হকি দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু হলো।
যাদের সহযোগিতা
এই উদ্যোগ সফল করতে পাশে ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, সদস্য রাইহান উদ্দিনসহ ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদকগণ এবং শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও উপ-পরিচালক আজাদ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সকলে।
“আমি নিজেও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় খেলতে পারিনি, সেই আক্ষেপ আছে। কিন্তু এখন যখন দেখছি হাজারো খেলোয়াড় এই সুযোগ পাবে -সেটাই বড় পাওয়া,” বলেন আরমান হোসেন।
তাছাড়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থা ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদকদেত মিটিংয়ে ডাকলে খেলাটি আরো শিক্ষার্থীবান্ধব হবে।
আজ হকি দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় খেলোয়াড়রা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।
