আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নিলেন দেশের দুই হ্যান্ডবল রেফারি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নিলেন দেশের দুই হ্যান্ডবল রেফারি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দুই হ্যান্ডবল রেফারি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আলমগীর এবং শান্ত মিয়া

বাংলাদেশের হ্যান্ডবলের জন্য এ এক গর্বের মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দুই হ্যান্ডবল রেফারি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন শান্ত মিয়া এবং মোহাম্মদ আলমগীর। এই মনোনয়ন এসেছে বিশ্ব হ্যান্ডবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল হ্যান্ডবল ফেডারেশন (আইএইচএফ) থেকে।

আইএইচএফের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের হ্যান্ডবলের অগ্রযাত্রার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ভেতরে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন শান্ত মিয়া ও মোহাম্মদ আলমগীর। তাদের অভিজ্ঞতা, নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং খেলার নিয়ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞানই শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের জায়গা করে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দুই হ্যান্ডবল রেফারি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আলমগীর এবং শান্ত মিয়া

আগামী ১০ থেকে ১৪ জুন ঢাকায় হতে যাওয়া আইএইচএফ ট্রফি (ইয়ুথ/জুনিয়র) সাউথ-সেন্ট্রাল এশিয়া জোন-২ এর খেলা পরিচালনা করবেন এই দুই বাংলাদেশি রেফারি।

হ্যান্ডবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে,

তাদের এই অর্জনে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন, বাংলাদেশ হ্যান্ডবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং হ্যান্ডবল কোচেস অ্যাসোসিয়েশসহ হ্যান্ডবল পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমরা সবাই তাদের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আরও মনে করেন,

এটি শুধু দুই রেফারির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের পুরো হ্যান্ডবল অঙ্গনের জন্যই একটি মাইলফলক। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক রেফারি ও খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

দেশের হ্যান্ডবল সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের রেফারি তৈরি হওয়া একটি দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এর মাধ্যমে দেশের খেলাধুলার মান ও গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বে আরও বিস্তৃত হয়। শান্ত মিয়া ও মোহাম্মদ আলমগীরের এই অর্জন নতুন প্রজন্মের রেফারিদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই খবরে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সুযোগ পেলে বাংলাদেশের হ্যান্ডবল আরও এগিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া রেফারিরা ভবিষ্যতে দেশের খেলোয়াড়দেরও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবেন।

সব মিলিয়ে, এই মনোনয়ন বাংলাদেশের হ্যান্ডবলের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শান্ত মিয়া ও মোহাম্মদ আলমগীর কতটা সফলভাবে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারেন।

Exit mobile version