গত ২০ বছর বগুড়ায় এবং ১০ বছর খুলনা ও ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। এ তিন ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শুক্রবার অ্যাডহক কমিটির গ্রাউন্ডস বিভাগে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু এমন কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে ভালো মানের উইকেট রাখা হবে।
একসময় বিশ্বে পরিচিতি পাওয়া বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লার তিন ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি অনেকদিন। এক দশক বা তারচেয়ে বেশি সময় ধরে এ তিনটি মাঠে খেলা হয়নি। এই দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের মাটিতে সবধরণের আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম আর সিলেটে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি এবার বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লার তিন স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে চায়।
তিন ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ
গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, এই মাঠগুলো সংস্কার করে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানো উদ্যোগ নিচ্ছে বিসিবি। তিনি বলেন, ‘এই মাঠগুলো একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খেলা না হওয়ায় স্বীকৃতি হারিয়েছে। এখন আমাদের অনেক মাঠের প্রয়োজন। তাই এগুলোকে আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কাজ করব।’

বগুড়ায় ২০০৬ সালে শেষবার ছেলেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই টেস্টের পর ২০০৯ সালে শুধু নারী ক্রিকেটের একটি ম্যাচ ছাড়া দীর্ঘ সময় সেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ছিল খুলনার স্টেডিয়ামে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর ফতুল্লার মাঠে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০১৬ সালে আরব আমিরাত ও হংকংয়ের মধ্যে এশিয়া কাপ বাছাইয়ে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে থাকবে ভালো উইকেট
রফিকুল ইসলাম বাবু আরও জানান, শুধু সংস্কার নয়, মাঠগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে ফেরাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উইকেট প্রস্তুতি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে ভালো উইকেট তৈরি জরুরি।
ঘরের মাঠে হতে যাওয়া এই সিরিজ সামনে রেখে দুই ভেন্যু- মিরপুর ও চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে কাজ চলছে। অ্যাডহক কমিটির গ্রাউন্ডস বিভাগ মাঠ ও উইকেট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
গণমাধ্যমকে রফিকুল বাবু জানিয়েছেন, এই সিরিজে এমন উইকেট তৈরি করা হবে যেখানে স্বাগতিকদের সুবিধা থাকবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানও বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো উইকেট চাই, যেখানে দুই দলই স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মানে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।’

বৃষ্টির শঙ্কাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বোর্ড। তাই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কাভারিং সিস্টেম এবং আউটফিল্ডের মানোন্নয়নে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সব ভেন্যুর বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। আগামী দুদিনের মধ্যে প্রত্যেকটি গ্রাউন্ডের, ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক জন্য যে সমস্ত মাঠগুলো বাছাই করা হয়েছে—সেগুলোর কী কন্ডিশন, সে বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলেছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। যদিও অল্প সময়, তবে আমাদের ইচ্ছা থাকলে আমরা ঠিক করতে পারব বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















