আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনে। পরিস্থিতি আরও জটিলতার দিকে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকো কিংবা কানাডায় সরিয়ে নেয়ার দাবী করেছিলো। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপ সূচিতে আর পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ফলে অনিশ্চয়তার মাঝেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হচ্ছে ইরানকে।
এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই গত বুধবার দক্ষিণ তুরস্কে অনুশীলনে নেমেছে ইরান জাতীয় দল। তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আনাতোলির বেলেক নামক স্থানে ইরানের অনুশীলন শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এই অনুশীলন ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয়। গণমাধ্যম কিংবা বাইরের কোনো দর্শকের প্রবেশাধিকার ছিল না। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফ সবাই আসন্ন প্রীতি ম্যাচগুলোকে ঘিরেই নিজেদের মনোযোগ ধরে রেখেছেন। কোনো খেলোয়াড় বা কোচ আপাতত গণমাধ্যমে কথা বলবেন না বলেও জানানো হয়েছে।
আগামী শুক্রবার ইরান নাইজেরিয়ার মুখোমুখি। পরবর্তী মঙ্গলবার তাদের প্রতিপক্ষ কোস্টারিকা। এই দুটি ম্যাচকে সামনে রেখে বেলেকেই গোপন প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। মূলত এই ম্যাচগুলো আগে জর্ডানে হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তন করে তুরস্কে নিয়ে আসা হয়েছে।
অনুশীলনের পরিবেশ যদিও ছিল চাপমুক্ত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের বেশ হাসিখুশি ও স্বতঃস্ফূর্ত দেখা গেছে। দলে রয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড মেহদী তারেমি। সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে খেলার সময় এক ইসরায়েলি ফুটবলারের সঙ্গে জার্সি বিনিময় করার ঘটনাটি তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
সরদার আজমাউন দল থেকে বাদ
অন্যদিকে, ইরানের আরেক তারকা স্ট্রাইকার সরদার আজমাউন দল থেকে বাদ পড়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের পর থেকেই তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ইরান সরকারের প্রতি আনুগত্যের ঘাটতি হিসেবে দেখা হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ আন্তর্জাতিক ফুটবলে আজমুনের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা এই স্ট্রাইকার দলটির অন্যতম ভরসা ছিলেন।
এদিকে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সেখানে খেলার প্রশ্নই ওঠে না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনো জোর দিয়েই বলেছেন,
“বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।”
সবমিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা শঙ্কা এবং দলীয় ভেতরের নানা বিতর্কের মধ্যেই ইরানকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
