এশিয়ান ফুটবলে শক্তিশালী দলের নামের তালিকায় থাকলে বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরাকের অবস্থান তলানিতে। একবারই মাত্র দলটি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলছে। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলা দলটির সামনে আবার চূড়ান্ত পর্বে খেলার হাতছানি। তার জন্য আর একটা মাত্র বাধা পার হতে হবে। আজ আন্ত কনফেডারেশন প্লে অফের ফাইনালে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয় পেলেই দলটি পৌঁছে যাবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে।
বিশ্বকাপের বাছাইয়ের শুরুতে ইরাক দুর্দান্ত অবস্থায় ছিল। গ্রুপ পর্বে ছয় ম্যাচের ছয়টিতে শতভাগ জয় নিয়ে তারা প্রথম রাউন্ডের বাধা পার হয়। পরবর্তী রাউন্ডে অল্পের জন্য পা ফসকে যায় তাদের। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায় জর্ডান। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ইরাককে প্রস্তুতি নিয়ে হয় পরবর্তী রাউন্ডে খেলা জন্য। সেখানে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দলটি। সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে সৌদি আরব চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। আর ইরাককে প্রস্তুতি নিতে হয় পঞ্চম রাউন্ডের লড়াইয়ের জন্য।
জিতলেই দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে ইরাক
পঞ্চম রাউন্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে আন্তঃ কনফেডারেশন প্লে অফে খেলার সুযোগ পায়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্লে অফে সুযোগ পাওয়া বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ তাদের। আজ বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা। জিতলেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে এশিয়ার দলটি। আর হারলে আবার অপেক্ষা।
৩২ বছর পর বলিভিয়ার সুযোগ
অন্যদিকে বলিভিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা ইরাকের তুলনায় একটু ভালো। এ পর্যন্ত তিনবার তারা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। প্রথমবার ১৯৩০ সালে। দ্বিতীয়বার ১৯৫০ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯৪ সালে তৃতীয়বার তারা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। তারপর আর দীর্ঘ বিরতি। ৩২ বছর পর আবার তাদের সামনে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ। তার জন্য চাই একটা জয়।
সপ্তম দল হয়ে প্লে অফে বলিভিয়া
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে এবারের বিশ্বকাপে সরাসরি ছয়টি দল চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পেয়েছে। আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, কলাম্বিয়া, উরুগুয়ে, ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে সরাসরি চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পায়। বাছাই পর্বে সপ্তম হয়ে বলিভিয়া পেয়েছে প্লে অফের ছাড়পত্র। ১৮ ম্যাচের ছয়টিতে জয় পেয়েছিল তারা। দুই ম্যাচে ড্র আর দশ ম্যাচে হার। দলটির রক্ষণভাগ বেশ দুর্বল। বাছাই পর্বে সবচেয়ে বেশি গোল হজম করেছে তারা। ৩৫ গোলের বিপরীতে ১৭ গোল। তাদের রক্ষণভাগের এই দুর্বলতাই ইরাককে আশাবাদী করে তুলেছে।
ইরাকের সমর্থকরা বলিভিয়ার এই ম্যাচটিকে জীবনের ম্যাচ বলে অভিহিত করেছে।
