যে কারণে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের হার। বহু নাটকের পর বিশ্বকাপের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান। তবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচে একপেশে দাপট এবং ফলাফলেও কোনো হের-ফের হয়নি। যথারীতি ভারতের কাছে পাত্তা পায়নি পাকিস্তান।
টস জিতে এদিন সূর্যকুমার যাদবদের ব্যাটিংয়ে পাঠান পাক অধিনায়ক সালমান আলি আগা। পরবর্তীতে ১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাকিস্তান ৬১ রানের ব্যবধানে হেরেছে। টসের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল নয়, শেষের দুটি পর্যায়েই কৌশলগত ভুল ও খারাপ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এমন ফল এসেছে বলে মনে করেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন।
জাসপ্রিত বুমরাহ’র দ্রুতগতির সুইং করা ইয়র্কারে সাইম আইয়ুব পরাস্ত হন। অন্যদিকে সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আগা ও বাবর আজমের শট নির্বাচনে দেখা যায় দ্বিধা ও ভুল পরিকল্পনা। এমন বিব্রতকর হারের পরপরই ঠান্ডা মাথায় মূল্যায়ন করা সহজ হওয়ার কথা নয়, তবে হেসন খোলামেলা কথা বলেছেন।
পাকিস্তানের প্রধান কোচ বলেন,‘ প্রতিপক্ষ যখন আপনাকে চাপে ফেলবে, তখন কি আপনি নিজের মৌলিক পরিকল্পনায় অটল থাকবেন, নাকি সেখান থেকে সরে যাবেন? টুর্নামেন্ট যত এগোবে, আমরা আরও চাপে পড়ব। তখন আমাদের প্রতিক্রিয়াই আসল বিষয়।
এরা সবাই আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়। কিন্তু চাপের মুহূর্তে তারা কি নিজেদের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখবে, নাকি পরিকল্পনার বাইরে চলে যাবে? চাপের মুখে আমরা পরিকল্পনা থেকে সরে গেছি। টুর্নামেন্টে এগোতে চাইলে এদিকটাতে আমাদের উন্নতি করতে হবে।’
তবে ভারত ২৫ রান বেশি করেছে। ফলে পাকিস্তানি ব্যাটাররা চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন হেসন। তিনি বলেন, ‘ব্যাটাররা লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে অতিরিক্ত চিন্তায় ভুগেছে। ভারতের করা স্কোর ধারণার চেয়ে প্রায় ২৫ রান বেশি ছিল।
তিনি বলেন,‘আমরা শুরুতেই এমন শটে উইকেট হারিয়েছি, যা ওই পিচে কঠিন সিদ্ধান্ত। যদি সিংহলিজ স্টেডিয়ামের মতো দ্রুতগতির উইকেট হতো, পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই আসল বিষয়। গত কয়েক মাসে আমরা এটা ভালোভাবে করেছি, কিন্তু একটু পিছিয়ে গিয়েছি আজ।’
এদিকে, টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তে ভুল ছিল না বলে দাবি পাকিস্তান কোচের। মাইক হেসনের মতে– ‘উভয় দলই আগে বোলিং করত। পিচ ছিল নরম, প্রথম ইনিংসে বল দ্বিতীয় ইনিংসের তুলনায় দ্বিগুণ স্পিন করেছে। প্রথম ইনিংসে বল স্কিড করেছে। তাই সিদ্ধান্তে কোনো সমস্যা ছিল না।’
কলম্বোতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লক্ষ্য তাড়ায় এমন বিপদে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়াও। সেই প্রসঙ্গ টানা হলে হেসন বলেন, ‘ওটা ছিল দিনের ম্যাচ। এটা রাতের ম্যাচ। টস নয়, আসল বিষয় ছিল বাস্তবায়ন।’
ভারতের কাছে আবারও হারায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন কোচ। ড্রেসিংরুমে ভীষণ হতাশা কাজ করছে, কারণ সবাই জানে এই ম্যাচ পাকিস্তানের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভালো খেলতে পারিনি, এতে আমরা খুবই হতাশ।
আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে লড়বে পাকিস্তান। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে সেই ম্যাচে তাদের জয়ের বিকল্প নেই।
