যে কারণে ভারতের এমন হার । দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লজ্জার হারে অনিশ্চিত হয়ে গেছে ভারতের সেমি-ফাইনালের পথ। বিশ্বকাপের সুপার এইটের লড়াইয়ে ভারতকে ৭৬ রানে হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বিশ্বকাপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন দলটি বিশ্ব আসরে টানা ১২ ম্যাচ হারার পর পরাজয়ের স্বাদ পেল।
অথচ টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জাসপ্রিত বুমরাজ ও আর্শদিপ সিংয়ের দারুণ বোলিংয়ে কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটন বিদায় নেন দ্রুতই। চার ওভার শেষে প্রোটিয়াদের রান ছিল ৩ উইকেটে ২০।
সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই হঠাৎ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ডেভিড মিলার ৩৫ বলে ৬৩ রান। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫ রান করেন। পরে ভারত আবার একটু ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবসের ২৪ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে ২০ ওভারে ১৮৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সেই রান তাড়ায় ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে পড়ে পাওয়ার প্লেতেই। শূন্য রানে ফেরেন ইশান কিষান, এক রানে তিলাক ভার্মা। টানা তিন শূন্যের পর এবার প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন আভিশেক শার্মা। কিন্তু ফর্মে ফেরা হয়নি তার ১২ বলে ১৫ রানে।
পাঁচ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারায় ভারত। অধিনায়ক সূর্যকুমার ২২ বলে করেন ১৮ রান। ম্যাচ শেষের অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় ভারতের হার। দলের বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে অভিযোগ নেই ভারতের অধিনায়কের। ম্যাচে হারের কারণ নিয়ে ভারতীয় অধিনায়ক বলেন,‘ম্যাচ হেরে গেছেন তারা পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ে।
অধিনায়ক বলেন,
খেলা যখন শুরু হয়েছিল, আমরা ম্যাচে ছিলাম ভালোভাবেই। শুরুতে আমরা দারুণ বোলিং করেছি। ওদের রান ছিল ৩ উইকেটে ২০। ৭ থেকে ১৫ ওভার পর্যন্ত ওরা দুর্দান্ত ব্যাট করেছে। পরে আবার আমরা ভালোভাবে ফিরে এসেছি। সব মিলিয়ে বোলিং আমরা ভালোই করেছি, তবে ব্যাটিং আরেকটু ভালো করতে পারতাম।
একই সাথে তিনি বলেন,
কখনও কখনও ১৮০-১৮৫ রান তাড়ায় মাথায় রাখতে হবে যে, পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ জেতা যাবে না, তবে পাওয়ার প্লেতেই হেরে যেতে পারি। পাওয়ার প্লেতে আমরা অনেক বেশি উইকেট হারিয়ে এবং এরপর ছোট ছোট যে জুটিগুলো প্রয়োজন ছিল, আমরা তা গড়তে পারিনি। আমরা এখান থেকে শিখব, চিন্তা করব এবং শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াব।
পরের ম্যাচে চেন্নাইয়ে ভারতের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। সুপার এইটের সমীকরণ এমনই যে, পরের দুটি ম্যাচ জিতলেও তা যথেষ্ট নাও হতে পারে সেমি-ফাইনালে ওঠার জন্য। রান রেটের সমীকরণ চলে আসতে পারে। এ বিষয়ে বলেন,
আশা করি, ব্যাটিং ভালো করব, বোলিং ভালো করব, ফিল্ডিং ভালো করব। এই তো! চেষ্টা করব সবকিছু সাধারণ রাখতে, যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট আমরা খেলে আসছি, সেটাই ধরে রাখতে, কিছুই যাতে না বদলায়। আমার মনে হয়, আমরা শক্তভাবেই ফিরে আসব।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















