হোসে মরিনিয়ো আবারও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেন। পর্তুগালের ঘরোয়া ফুটবলে বেনফিকার এই কোচকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর কারণ মূলত প্রতিপক্ষ দলের কোচের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে লাল কার্ড দেখা। এমন নিষেধাজ্ঞায় পড়ার ঘটনা তার জন্য নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। কিছুদিন আগেই এমন একটা নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে।
কয়েকদিন আগে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিল বেনফিকা। কিন্তু সাবেক লস ব্লাঙ্কোস কোচ হোসে মরিনিয়ো প্রতিপক্ষ শিবিরের হয়ে সেখানে যেতে পারেননি। রেফারির সমালোচনা করায় বেনফিকার এই কোচ প্লে-অফের ফিরতি লেগে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। অহরহ এমন শাস্তি পেয়ে অভ্যস্ত মরিনিয়ো এবার পর্তুগালের ঘরোয়া লিগেও দুই ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন।
আগামী দুই ম্যাচে হোসে মরিনিয়ো দল পরিচালনা করতে পারবেন না। বেনফিকার এই কোচ গত রবিবার পর্তুগিজ ক্ল্যাসিকোতে এফসি পোর্তোর সহকারী কোচ লুচো গঞ্জালেজের সঙ্গে উত্তপ্ত বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। লাল কার্ড পাওয়ার কারণে তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
হোসে মরিনিয়ো যে অভিযোগে অভিযুক্ত
প্রিমেইরা লিগের সেই ম্যাচটি ২-২ সমতায় শেষ হয়। ৯১ মিনিটে প্রতিপক্ষ পোর্তোর বেঞ্চের দিকে বল কিক মেরে বসেন হোসে মরিনিয়ো। ওই সময় তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় দলটির সহকারী কোচ লুচো গঞ্জালেজের। এর শাস্তিস্বরূপ তৎক্ষণাৎ লাল কার্ড দেখেন বেনফিকা কোচ মরিনিয়ো। পরবর্তীতে পর্তুগিজ সকার ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল বেনফিকার পরবর্তী দুই ম্যাচে মরিনিয়োকে নিষিদ্ধ করেছে।
অবশ্য এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত দলের গোল উদযাপনের অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডের দিকে বল কিক মারতে চেয়েছিলেন মরিনিয়ো। কিন্তু সেটি গিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ পোর্তো বেঞ্চের দিকে। স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে পরিস্থিতি গরম হয়েছে এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পোর্তোর সহকারী কোচের সঙ্গে বাদানুবাদের দায়ে ১১ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন মরিনিয়ো।
ওই সময়ে বেনফিকার একটি ম্যাচ আছে, পাশাপাশি আরেক ম্যাচে তাকে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ সকার ফেডারেশন। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল মরিনিয়োর বিরুদ্ধে এ দুটি সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। পোর্তোর সহকারী কোচ লুচো গঞ্জালেজও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও আট দিনের নিষেধাজ্ঞ পেয়েছেন।
হোসে মরিনিয়ো যে শাস্তি পেয়েছেন
হোসে মরিনিয়ো নিজেও দাবি করেছেন যে, তিনি বল স্ট্যান্ডের দিকে নিক্ষেপের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটি পোর্তোর ডাগআউটে পড়ার কারণেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জবাবে গঞ্জালেজ তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করেন বলে মরিনিয়ো দাবি করেন। আর মরিনিয়ো ওই সময় তাকে তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করেন এবং বারবার বলেন, ‘তুমি ছোট।’
হোসে মরিনিয়োর এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বেনফিকার–আরুকা ম্যাচে কার্যকর হবে। ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী দুটি শাস্তি একসঙ্গে প্রযোজ্য হবে না। ১১ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ২১ মার্চ ভিতোরিয়ার বিপক্ষেও ডাগআউটে দাঁড়াতে পারবেন না এই কিংবদন্তি কোচ।
অবশ্য বেনফিকা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, হোসে মরিনিয়োর শাস্তি অন্যায্য ও অযৌক্তিক। যেই পোর্তোর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন মরিনিয়ো, তাদেরও কোচিং করিয়েছেন এক সময়। ২০০৪ সালে পোর্তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলেছিল তার অধীনেই।
