২ লাখ স্টিকার এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের অসংখ্য জাল জার্সি
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরুর আগেই ফুটবল-পাগল দেশ ব্রাজিলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বড়সড় এক জালিয়াত ও কালোবাজারি চক্র। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাদের একটি বড় পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রিও ডি জেনিরোতে পুলিশ এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিশ্বকাপের বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও নকল সামগ্রী জব্দ করেছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ফুটবল ভক্তদের অত্যন্ত প্রিয় ‘পানিনি’ (Panini) অ্যালবামের প্রায় ২ লাখ স্টিকার এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের অসংখ্য জাল জার্সি। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (২২ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিও ডি জেনিরো পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে রিও ডি জেনিরোর উত্তর উপকণ্ঠে অবস্থিত নোভা ইগুয়াকু (Nova Iguacu) এলাকায় একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি সন্দেহভাজন বাসে তল্লাশি চালাতে গিয়েই বিপুল পরিমাণ এই চোরাচালান পণ্যের সন্ধান পান কর্মকর্তারা।
পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি বড় টেবিলের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপের পানিনি অ্যালবামের হাজার হাজার স্টিকারের প্যাকেট। এর পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘১০ নম্বর’ সম্বলিত সেলেসাওদের বিপুল পরিমাণ নকল হোম জার্সি। ফুটবল বিশ্বে এই ১০ নম্বর জার্সিটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, যা পেলে, রোনালদিনহো ও নেইমারের মতো কিংবদন্তিরা গায়ে জড়িয়েছেন। স্বভাবতই সাধারণ ভক্ত ও সমর্থকদের মাঝে এই বিশেষ জার্সির আকাশচুম্বী চাহিদাকে পুঁজি করে অর্থ হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল এই চক্রটি।
পুলিশ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে,
“জব্দকৃত সমস্ত সামগ্রী ও উপাদান বর্তমানে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আইনি প্রক্রিয়া মেনে এই সমস্ত অবৈধ মালামাল সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।”
এই জাল পণ্যগুলো কোথায় তৈরি হচ্ছিল এবং কীভাবে তা বাজারে বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার মূল হোতাদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ উন্মাদনা অন্যদের চেয়ে আলাদা
ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র দল হিসেবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলে বিশ্বকাপকে ঘিরে উন্মাদনা সবসময়ই অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আলাদা থাকে। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের ছবি সম্বলিত প্যানিনি ফুটবল স্টিকার সংগ্রহ করা এবং তা নির্দিষ্ট অ্যালবামে আঠা দিয়ে লাগানো ব্রাজিলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষই এই স্টিকার সংগ্রহে মেতে ওঠেন।
ভক্তদের এই প্রবল আবেগ ও ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়েই কালোবাজারিরা বাজারে নকল পণ্য ছড়িয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল। তবে বিশ্বকাপের মূল আসরের আগেই পুলিশের এই বড়সড় ধাক্কা জালিয়াত চক্রের সেই মনবাসনা ভেস্তে দিল। প্রশাসন জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাজার জমজমাট হওয়ার এই সময়ে নকল পণ্যের বিস্তার রোধে পুরো শহর জুড়ে তাদের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















