পায়ে ছিল সমস্যা। অথচ সেই পায়ের জাদুতেই বিশ্বকে বিমোহিত করে রেখেছেন। ফুটবলের জাদুকর হিসেবে লিওনেল মেসিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্পেনের ক্লাব বার্সেলোনার আছে অনেক বড় ভূমিকা। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে ক্লাবটি তাকে গড়ে তুলেছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে। স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযাগ থাকলেও খেলেননি, বরং নিজ দেশ আর্জেন্টিনার হয়েই খেলেছেন। তার কারণও জানিয়েছেন মেসি।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা ছেড়ে লিওনেল মেসি চলে আসেন স্পেনে। তখন থেকেই স্পেনের জায়ান্ট ক্লাব বার্সেলোনায় তাঁর বেড়ে ওঠা। এরপর তারকাখ্যাতি পেয়েছেন এবং ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছেন বার্সার হয়ে খেলেই।
দারুণ প্রতিভার জন্য ২০০৫ সালে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে অভিষেক হয় মেসির। পরের বছর বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে গোল করেন, অ্যাসিস্টও করেন। তবে ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে মেসি চাইলে ২০১০ সালের আসরে দল পাল্টে স্প্যানিশদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন। কারণ দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি তিনি স্পেনেরও নাগরিক।

বার্সার যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠার সময় স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ মেসির প্রতি আগ্রহ দেখায়। স্পেনে উদীয়মান এক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এমন আগ্রহ স্বাভাবিকই বলা যায়। এমনকি স্পেনকে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালের ইউরো জেতানো কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক জানিয়েছিলেন, মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি করার জন্য সব চেষ্টা করেছিল ফেডারেশন।
যে কারণে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন মেসি
তবে স্পেন বাদ দিয়ে আর্জেন্টিনাকেই বেছে নেন মেসি। দেশপ্রেম এক্ষেত্রে বড় কারণ। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার সেজন্যই সব সুযোগ-সুবিধা পেয়েও এবং আরও অনেক কিছু প্রাপ্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্পেনের হয়ে খেলেননি।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক নাহুয়েল গুসমানের পডকাস্ট ‘মিরো দে আট্রাসে’ উপস্থিত হয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মেসি বলেন,‘আমার হৃদয় সবসময় আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছিল।’ মেসি তাঁর কৈশোর স্পেনে কাটালেও, আর্জেন্টিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবসময়ই দৃঢ় ছিল।
মেসি এ বিষয়টি নিয়ে আরও বলেন,‘আসলে, একটা মুহূর্ত ছিল এই প্রসঙ্গে কথা উঠেছিল। আমি তখন ইতোমধ্যেই বার্সার হয়ে খেলছিলাম, এবং তারা সেটা ইঙ্গিত দিয়েছিল, প্রস্তাব দিয়েছিল… যা স্বাভাবিক, তাই না? এমনটা অনেক প্রতিভাবান কিশোরের সঙ্গে হয়। সেই সময়, যদিও আমি আর্জেন্টাইন, আমি খুব ছোটবেলায় বার্সেলোনায় চলে এসেছিলাম এবং তাদের যুব সিস্টেমে বেশিরভাগ অনুশীলন করেছি, তাই সম্ভাবনা ছিল। এমনটা ঘটতে পারত।’
৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা সবসময় বিশ্বাস করতেন যে একদিন আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে শিরোপা জিতবেন। এরপরে ইতিহাসকে নিজের আয়ত্বে নিয়েছেন। কোপা আমেরিকা-বিশ্বকাপ-কোপা আমেরিকা, এভাবেই টানা তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পূর্ণতা দিয়েছেন মেসি।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩

















