বরখাস্ত হলেন মোহামেডানের কোচ আলফাজ আহমেদ

চলতি মৌসুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে অবশেষে প্রধান কোচের পদ হারাতে হয়েছে আলফাজ আহমেদকে। সাদাকালো জার্সিধারী ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান

আলফাজ আহমেদ

গত মৌসুমে ঐতিহাসিক সাফল্যের নায়ক হলেও চলতি মৌসুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে অবশেষে প্রধান কোচের পদ হারাতে হয়েছে আলফাজ আহমেদকে। সাদাকালো জার্সিধারী ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড রোববার এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক মো. মোস্তাকুর রহমানের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে সহকারী কোচ আব্দুল কায়ূম সেন্টুকে মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্লাবের স্থায়ী সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবুকে টিম লিডারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যাতে দলকে সংগঠিত ও স্থিতিশীল করা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আলফাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে,

দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ক্লাবকে এক ধরনের সংকটময় অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন পারফরম্যান্সে ক্লাবের কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদ এবং বিপুলসংখ্যক সমর্থক চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাই ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল এবং ধারাবাহিক উন্নতির লক্ষ্যেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলফাজ আহমেদের সঙ্গে মোহামেডানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে তিনি সহকারী কোচ হিসেবে ক্লাবে যোগ দেন। এরপর ২০২৩ সালে শফিকুল ইসলাম মানিক দায়িত্ব ছাড়লে প্রধান কোচের দায়িত্ব পান তিনি। তার অধীনেই ২০২৪-২৫ মৌসুমে মোহামেডান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে। ২০০৭ সালে পেশাদার লিগ শুরুর পর সেটিই ছিল ক্লাবটির প্রথম লিগ শিরোপা। শুধু তাই নয়, ২০২২-২৩ মৌসুমে ফেডারেশন কাপ জয়ের কৃতিত্বও আসে তার হাত ধরে।

চলতি মৌসুমে শুরু থেকেই ছন্দহীন

তবে চলতি মৌসুমে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। লিগের শুরু থেকেই ছন্দহীন পারফরম্যান্সে ভুগছে মোহামেডান। সর্বশেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর কাছে ২-১ গোলে পরাজয়ের পর তাদের অবস্থান আরও নাজুক হয়ে পড়ে। ১২ ম্যাচে মাত্র ১১ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে দলটি, যেখানে জয় এসেছে মাত্র দুটি ম্যাচে।

অন্যদিকে ফেডারেশন কাপেও পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক নয়। ‘বি’ গ্রুপে ৫ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে মোহামেডান, ফলে গ্রুপ পর্ব পেরোনো নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সব মিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সের এমন অধঃপতনই শেষ পর্যন্ত আলফাজ আহমেদের বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Exit mobile version