পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিজের প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি নাহিদ রানা। এবার নাহিদের বোলিং ঝলক দেখেছে পিএসএল। করাচিতে তার আগে বাবর আজম দ্রুততম ১২ হাজার রানের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন ও কুসল মেন্ডিস করেন শতক। পেশোয়ার জালমি ১৫৯ রানের বড় জয় পায় করাচি কিংসের বিপক্ষে।
পেশোয়ার ২০ ওভারে তিন উইকেটে ২৪৬ রান করার পর নাহিদের বোলিং ঝলক দেখা গেছে। বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার ৩টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া বাকি বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে করাচি ১৬.১ ওভারে মাত্র ৮৭ রানেই গুটিয়ে যায়।

টস জিতে পেশোয়ারকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় করাচি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ হারিসের (০) উইকেট হারায় তারা। এরপর বাবর ও মেন্ডিস মাত্র ৯৭ বলে ১৯১ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটি গড়েন। এটি পিএসএল ইতিহাসে রেকর্ড জুটি। বাবর ও শারজিল খান ২০২১ সালে করাচির হয়ে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১৭৬ রানের জুটি গড়েছিলেন।
বাবরের বিশ্ব রেকর্ড
এবার করাচির বিপক্ষে যেকোনো জুটিতে পেশোয়ারেরও রেকর্ড জুটি গড়লেন বাবর। এর আগে তাদের সেরা টি-২০ জুটি ছিল ১৬২ রানের। ২০২৩ সালে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে বাবর ওপেনিংয়ে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে সেটি করেছিলেন।
মেন্ডিস টি-২০ ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ৫২ বলে ১৪টি চার ও ৪টি ছয়ে ১০৯ রান করে আউট হয়ে যান। তবে বাবর ৫১ বলে ১০ চার ও ২টি ছয়ে ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাবর এই ইনিংস খেলার পথে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ১২ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। মাত্র ৩৩৮ ইনিংসে এই কীর্তি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলকে (৩৪৫ ইনিংস) পেছনে ফেলেছেন তিনি। শোয়েব মালিকের পর দ্বিতীয় পাকিস্তানি হিসেবে ১২ হাজার টি-২০ রান করলেন বাবর।

পরে আব্দুল সামাদের ১২ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছয়ে করা বিধ্বংসী ৪০ রানের অপরাজিত ইনিংসে রানের পাহাড় গড়ে পেশোয়ার। আব্বাস আফ্রিদি চার ওভারে ৫৫ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন।
নাহিদের বোলিং ঝলক
জবাব দিতে নেমে করাচি আট রানেই ৩টি উইকেট হারায় শরিফুল ইসলাম ও ইফতিখার আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে। এরপর নাহিদ ও সুফিয়ান মুকিমের বিধ্বংসী বোলিংয়ে করাচির ব্যাটাররা চোখে অন্ধকার দেখেন।
আগের দুই ম্যাচে শরিফুল ভালো করতে পারেননি। তিনিও এদিন শুরুতে দুর্দান্ত ছিলেন। আর গত ম্যাচে পিএসএল অভিষেক হওয়া নাহিদ একেবারেই নিস্প্রভ ছিলেন। এদিন গতির ঝড়ে বিদ্যুতের মতো চমক দেখিয়েছেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত করাচি ২৩ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে গেছে ৮৭ রানে। নাহিদ চার ওভার বোলিং করে ১টি মেডেন দিয়ে মাত্র সাত রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া মুকিম চার ওভারে ১৮ রানে এবং ইফতিখার ২.১ ওভারে ৯ রানে শিকার করে ৩টি করে উইকেট।

করাচির হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন আজম খান। তিনি ২৭ বলে ৩টি চার ও ১টি ছয়ে এই ইনিংস খেলেন। সাতজন ব্যাটার দুই অঙ্কের নিচে সাজঘরে ফেরেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন সা’দ বেগ। শরিফুল তিন ওভারে ২৩ রান খরচায় পান ১টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পেশোয়ার জালমি- ২৪৬/৩; ২০ ওভার (মেন্ডিস ১০৯, বাবর ৮৭*, সামাদ ৪০*; আব্বাস ২/৫৫, খুশদিল ১/৩৭)।
করাচি কিংস- ৮৭/১০; ১৬.১ ওভার (আজম ২৫, সা’দ ১৪, খুশদিল ১০; নাহিদ ৩/৭, ইফতিখার ৩/৯, মুকিম ৩/১৮, শরিফুল ১/২৩)।
ফল : পেশোয়ার জালমি ১৫৯ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : কুসল মেন্ডিস।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩











