নাহিদের বিবর্ণ অভিষেক ম্যাচে নাটকীয় জয় পেশোয়ারের

নাহিদের বিবর্ণ অভিষেক ম্যাচে নাটকীয় জয় পেশোয়ারের

নাহিদের বিবর্ণ অভিষেক ম্যাচে নাটকীয় জয় পেশোয়ারের, ছবি : সংগৃহীত

পেশোয়ার জালমি তৃতীয় ম্যাচে খেলিয়েছে নাহিদ রানাকে। কিন্তু নাহিদের বিবর্ণ অভিষেক ম্যাচে ইফতিখার আহমেদের ম্যাজিকে জিতেছে তার দল পেশোয়ার। দুই বাংলাদেশি পেসার নাহিদ ও শরিফুল ইসলাম বাজে বোলিং করেছেন। তবে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বুধবার করাচিতে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে নাটকীয়ভাবে চার উইকেটে হারিয়েছে দলটি।

তিন ওভারে ৩০ রান দিয়ে নাহিদের বিবর্ণ অভিষেক হয়েছে পিএসএলে। আগের দুই ম্যাচে দর্শক হয়ে বসে ছিলেন তিনি। প্রথমটি খেললেও গত ম্যাচে সাইডলাইনে ছিলেন শরিফুলও। দুজনই হায়দরাবাদের বিপক্ষে বুধবার খেলার সুযোগ পান। কিন্তু উভয়ে বল হাতে ছিলেন একেবারে নিস্প্রভ। তবে দল জিতেছে।

টস জিতে আগে হায়দরাবাদকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পেশোয়ার। সতর্ক শুরুতে ২৬ রানের ওপেনিং জুটি পেলেও পরে ৩৪ রানেই ৪টি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে হায়দরাবাদ। ইফতিখার আহমেদ একাই তার অফস্পিনের জাদুতে চার টপঅর্ডারকে শিকার করেন।

পঞ্চম উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়ে হায়দরাবাদকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন মারনাস লাবুশেস ও কুসল পেরেরা। ধীরস্থির লাবুশেন ২৭ বলে ৩টি চারে ২৭ রান করে বিদায় নেন। তবে কুশল ১৭তম ওভারে আউট হয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির পর।

নাহিদের বিবর্ণ অভিষেক

১৮.২ ওভারে হায়দরাবাদ ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায়। কুশল ৩৫ বলে ৫টি চার ও ২টি ছয়ে ৫৮ রান করেন। প্রথমদিকে ইফতিখান ২১ রানে ৪টি এবং পরের দিকে সুফিয়ান মুকিম ৩২ রানে ৪টি উইকেট নেন। নাহিদ তিন ওভারে ৩০ আর শরিফুল প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে দুই ওভারে খরচা করেন ২১ রান। উভয়ে উইকেটশুন্য থাকেন।

জবাব দিতে নেমে ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে পেশোয়ারকে ঠিক পথে রাখেন বাবর আজম ও কুসল মেন্ডিস। ২৩ বলে ১টি চার ও ২টি ছয়ে ২৭ রানে আউট হন কুসল। আর বাবর তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন আরো ৩৮ রান।

১৯ বলে ২টি চার ও ১টি ছয়ে মাইকেল ব্রেসওয়েল সাজঘরে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। কিছু পরেই বাবর ৩৭ বলে ৬টি চারে ৪৩ রানে আউট হওয়ার পর ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে যায়। পরের ৯ রানে ৩টি উইকেট হারিয়ে পেশোয়ারের রানের গতিতে পতন ঘটে।

শেষ বলে নাটকীয় নিষ্পত্তির মুহূর্ত, ছবি : সংগৃহীত

সে কারণে শেষ ওভারে ১৪ রানে প্রয়োজন পড়ে জয়ের জন্য। বল হাতে ম্যাজিক দেখানো ইফতিখারই ব্যাট হাতে জয় এনে দেন। প্রথম তিন বলে একটি বাউন্ডারিতে ছয় রান আসে। পরের তিন বলে তখনও আট রান প্রয়োজন।

হুসেন শাহর করা তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করে দেন ইফতিখার। পরের দুই বলে সিঙ্গেল নিয়ে জিতে যায় পেশোয়ার। ২০ ওভারে ছয় উইকেটে ১৪৬ রান তোলে তারা। ১০ বলে ১টি করে চার-ছয়ে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন ইফতিখার। দুই উইকেট নেন সাইম আইয়ুব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

হায়দরাবাদ কিংসমেন- ১৪৫/১০; ১৮.২ ওভার (পেরেরা ৫৮, লাবুশেন ২৭, সাদাকাত ১৭; ইফতিখার ৪/২১, মুকিম ৪/৩২)।

পেশোয়ার জালমি- ১৪৬/৬; ২০ ওভার (বাবর ৪৩, মেন্ডিস ২৭, ব্রেসওয়েল ২৫, ইফতিখার ১৫*; সাইম ২/১৯, আলি ১/১৬, হাসান ১/২৫)।

ফল : পেশোয়ার জালমি ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : ইফতিখার আহমেদ।

Exit mobile version