মাতৃত্বের টান উপেক্ষা করে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন আরচ্যার নাসরিন , তেরো মাস বয়সী শিশু সন্তান। ছোট্ট মানুষটি এখনও মা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। সেই বাচ্চাটিকে ঘরে রেখে লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিদেশের মাটিতে খেলতে যাওয়া যেকোনো মায়ের জন্যই এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু ব্যক্তিগত আবেগ আর মাতৃত্বের মায়াকে একপাশে সরিয়ে রেখে দেশের টানে চীনের উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছেন এই মুহর্তে বাংলাদেশের সেরা রিকার্ভ আরচ্যার নাসরিন আক্তার।
চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ আরচ্যারী স্টেজ-২ এর জন্য শনিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে। ১০টি ইভেন্টে অংশ নিতে যাওয়া এই দলে সবার আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন নাসরিন। ১৩ মাসের সন্তানকে রেখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফেরার এই অদম্য জেদ উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাসরিন বলেন,
“মা হিসেবে কাজটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। আমার সন্তান এখনো অনেক ছোট, কিছুক্ষণ পরপরই আমাকে খুঁজতে থাকে। তারপরও দেশের দায়িত্ব সবকিছুর উর্ধ্বে।”
তিনি আরও জানান, স্বামী ও পরিবারের পূর্ণ সমর্থন থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েই তিনি এই চ্যালেঞ্জ নিতে পারছেন।
নাসরিনের এই ফিরে আসাকে অবিশ্বাস্য বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক। মা হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়েও নাসরিন যেভাবে নিজের ফর্ম এবং আগের সেই মানসম্মত স্কোর ধরে রেখেছেন, তা কোচকে মুগ্ধ করেছে। ফ্রেডরিকের মতে,
“এই বিশ্বকাপটি মূলত আসন্ন এশিয়ান গেমসের একটি বড় প্রস্তুতির ক্ষেত্র।”
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শুধু রিকার্ভ নয়, প্রত্যাশা বেড়েছে কম্পাউন্ড ইভেন্ট নিয়েও। গত মাসে থাইল্যান্ডে এশিয়া কাপে স্বর্ণ জেতায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে আছে কম্পাউন্ড দল। স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য হিমু বাছাড় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
বিশ্বকাপের শক্তিশালী মঞ্চেও তারা সাফল্যের এই ধারা বজায় রাখতে চান।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে এশিয়া কাপে স্বর্ণজয়ী তিন আরচ্যার হিমু বাছাড়, ঐশ্বর্য্য রহমান ও নেওয়াজ আহমেদ রাকিবকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন ওয়ার্ল্ড আরচ্যারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীবউদ্দিন আহমেদ চপল।
সাঙহাইয়ে সাফল্যের অপেক্ষায় ‘বীরাঙ্গনা মা’ নাসরিন
তবে ফেডারেশন ও সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার ঘোষিত বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার এখনো না পাওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা আক্ষেপ বিরাজ করছে। ফেডারেশন সভাপতি মোখলেসুর রহমান অবশ্য দ্রুতই এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সকল পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আর মাতৃত্বের লড়াইয়ে নাসরিন আক্তার আজ এক অনন্য উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, সাংহাইয়ের আঙিনায় তীর-ধনুকের লড়াইয়ে বাংলাদেশের এই বীরাঙ্গনা মা কতটা সাফল্য নিয়ে ফিরতে পারেন।
