এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ একমাত্র অপরাজিত দল ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অপ্রতিরোধ্য প্রোটিয়ারা টানা সাত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে পা রাখে। কিন্তু সেমিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পায়নি তারা। ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফিন অ্যালেনের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড।
আগে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ১৬৯ রান। জবাবে নিউজিল্যান্ড মাত্র ১২.৫ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তুলে সহজ জয় ছিনিয়ে নেয়। অ্যালেন মাত্র ৩৩ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন। এটি টি-২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এর আগের রেকর্ড গড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। তিনি ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেন ২০১৬ বিশ্বকাপে।

২০২১ সালের আসরে প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছে কিউইরা। সেবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনালে হেরে যায়। আর প্রোটিয়ারা গতবার ফাইনাল খেলে ভারতের কাছে হেরেছে। এবার ফাইনালেও উঠতে পারল না তারা। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও সেমি থেকে বিদায় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রোটিয়া ব্যাটারদের ব্যর্থতা
আজ টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারালেও পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে ৪৮ রান তোলে তারা। কিন্তু এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও তিনটি উইকেট খুইয়েছে প্রোটিয়ারা। পুরো আসরে দুর্দান্ত প্রোটিয়া ব্যাটাররা এদিন হয়েছেন চরমভাবে ব্যর্থ।
৭৭ রানে পাঁচ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ২৭ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ৭৩ রানের জুটি গড়ে প্রোটিয়াদের চ্যালেঞ্জিং স্কোরে নিয়ে যান ত্রিস্তান স্টাবস ও মার্কো ইয়ানসেন।

স্টাবস ২৪ বলে ২টি চার, ১টি ছয়ে ২৯ রানে ফিরে গেলেও ইয়ানসেন করেন ফিফটি। তার ৩০ বলে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় করা অপরাজিত ৫৫ রানের সুবাদেই প্রোটিয়ারা ৮ উইকেটে ১৬৯ রানের সংগ্রহ পায়। ২টি করে উইকেট নেন কোল ম্যাকঙ্কি, রাচিন রবীন্দ্র ও ম্যাট হেনরি।
জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন প্রোটিয়া বোলাররাও। ওপেনিং জুটিতে ১১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন টিম সাইফার্ট। তিনি ৩৩ বলে ৭টি চার, ২টি ছক্কায় ৫৮ রান করেন। তখন মাত্র ৯.১ ওভার!
অ্যালেন ঝড়ে অসহায় প্রোটিয়া বোলাররা
আর বিধ্বংসী অ্যালেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন। দলের জয়ের জন্য যখন ১ রান প্রয়োজন, তখন তার সেঞ্চুরির জন্য দরকার ছিল ৪! মার্কো ইয়ানসেনকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ওই ওভারে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৪ রান তুলে নেন অ্যালেন।

এর আগে ষষ্ঠ ওভারে করবিন বশের বোলিংয়েও টানা ৫ বলে একটি ছক্কা ও ৪টি চার হাঁকিয়ে ২২ রান তুলে নিয়েছিলেন অ্যালেন। ১৯ বলেই হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। সে কারণে পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে নিউজিল্যান্ড করে বিনা উইকেটে ৮৪ রান। এ জন্যই এত দ্রুত জিতেছে কিউইরা।
নিউজিল্যান্ড জিতে যায় ৪৩ বল হাতে রেখে। অ্যালেন ৩৩ বলে ১০টি চার, ৮টি ছক্কায় ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। টেস্ট খেলা দুই দলের টি-২০ ম্যাচে এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরি। ২০০৭, ২০১৬ ও ২০২২ সালে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া নিউজিল্যান্ড ২০২১ সালে একবার ফাইনাল খেলে রানার্সআপ হয়। দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠল তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা- ১৬৯/৮; ২০ ওভার (ইয়ানসেন ৫৫*, ব্রেভিস ৩৪, স্টাবস ২৯, মার্করাম ১৮; ম্যাকঙ্কি ২/৯, রবীন্দ্র ২/২৯, হেনরি ২/৩৪)।
নিউজিল্যান্ড- ১৭৩/১; ১২.৫ ওভার (অ্যালেন ১০০*, সাইফার্ট ৫৮, রবীন্দ্র ১৩*; রাবাদা ১/২৮)।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ফিন অ্যালেন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















