কিছু মানুষ আমাকে পছন্দ করে না : নেইমার

আমাকে পছন্দ করে না কিছু মানুষ: নেইমার

কোন কারণ ছাড়াই কিছু মানুষ পছন্দ করেন বলে মন্তব্য করেছেন নেইমার। বিশ্বকাপে ফেরার আশায় স্বদেশের ক্লাব সান্তোসে ১৭ বছর বয়সে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন নেইমার। সেখানে দারুণ সাফল্যে ফুটবলবিশ্বে সাড়া ফেলে দেন।

পরে বার্সেলোনায় লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে সর্বজয়ী জুটি গড়ে তোলেন। কাতালুনিয়ায় ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় বিশ্বরেকর্ড প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে পিএসজিতে যান এবং এরপরে একের পর এক ইনজুরি তাকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়।

তবে সৌদি আরবে ব্যর্থ ও সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়ে ক্যারিয়ার সায়াহ্নে নেইমার ফিরেছেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে শৈশবে নেইমার যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন। সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড তার ইউটিউব চ্যানেলে নিজের শৈশব সম্পর্কে বলেন, ‘আমার বয়স তখন ১৩-১৪।

আমি স্কুলের ভ্রমণে যেতাম না, বন্ধুদের সঙ্গে সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতে যেতাম না, কারণ পারতাম না, পরদিন সকালে ট্রেনিং থাকত।’এ বিষয়ে নেইমার যোগ করেন, ‘আমি ভাবতাম: ‘ধুর! আমার সব বন্ধু মজা করছে, আর আমি বাড়িতে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু একটা উদ্দেশ্য ছিল, একটা কারণ ছিল, আমি সেটা বুঝতাম। রাগ হতো, কিন্তু পরের দিন ফুটবল খেলতে পারব ভেবে আবার দারুণ খুশি হয়ে যেতাম।’

এছাড়া বিশ্বজুড়ে খ্যাতি ও সম্পদ অর্জন করলেও, নেইমার মাঝে মাঝে চান এই সবকিছু থেকে দূরে সরে সাধারণ জীবন উপভোগ করতে। তিনি বলেন, ‘আমি ২০ বছর ধরে এই অবস্থায় আছি। এটা একজন খেলোয়াড় হওয়ার মূল্য। খুব কঠিন। ব্রাজিলে তো আরও কঠিন; মানুষ আপনাকে ছিঁড়ে ফেলে সমালোচনা করে, বোঝে না যে আপনি একজন সাধারণ মানুষ। হ্যাঁ, এটা খুবই কঠিন। আমি কৃতজ্ঞ, কারণ আমি এর জন্য পরিশ্রম করেছি, কিন্তু আমিও একজন মানুষ।’

এছাড়া নেইমার জানান.‘ সমালোচনা তাকে কষ্ট দেয়। বার্সেলোনা ও পিএসজির এই তারকা বলেন, ‘কিছু মানুষ আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই পছন্দ করে না, এটা দেখে আমার খারাপ লাগে। আমি যেন ভুল করতে পারি না, কিন্তু আমি অনেক ভুল করেছি। আমি মাথা নিচু করি, স্বীকার করি, আর এটা জীবনেরই অংশ। আমার বয়স এখন ৩৪; অনেক ভুল করেছি, সামনে আরও করব।’

নেইমার ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭৯ গোল) এবং তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাম হাঁটুর এসিএল ও মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি জাতীয় দলে খেলেননি।

যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন, তার পারফরম্যান্স এখনো জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি, ফলে আসন্ন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার জায়গা এখনো নিশ্চিত নয়।

Exit mobile version