যেসব সংস্কারের সুপারিশ তদন্ত কমিটির। নানা অনিয়মের অভিযোগে ছয় মাসের মাথায় ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। একই সাথে বিসিবি নির্বাচন নিয়ে সংস্কারের সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।
১. বিসিবি সংবিধান (গঠনতন্ত্র) সংস্কার।
নির্বাহী এবং নির্বাচনী কার্যাবলী স্পষ্টভাবে পৃথক করা উচিত, যাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও স্বার্থের সংঘাত এড়ানো যায়। একটি স্বাধীন গভর্ন্যান্স ও এথিকস কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, যা নীতিমালা অনুসরণ, নৈতিকতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
সভাপতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে স্বেচ্ছাচারিতা, অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়। অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্বাচনী কারসাজির রিপোর্ট করার জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে।
২. বিসিবি নির্বাচন বিধিমালা সংস্কার।
মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রচারণা, ভোটগ্রহণ, গণনা এবং নির্বাচন পরবর্তী নিষ্পত্তিসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সকল ধাপ অন্তর্ভুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ই-ভোটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, অখণ্ডতা এবং নিরীক্ষাযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান প্রণয়ন করা জরুরি।
প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং যাচাইযোগ্য পদ্ধতি প্রবর্তন করে সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা রাখতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত আপত্তি, অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কার্যকর, নির্দিষ্ট সময়সীমাবদ্ধ এবং স্বচ্ছ বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো গঠন করতে হবে।
৩. নির্বাচন কমিশন কাঠামো সংস্কার।
সংবিধানে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ সংশোধন, স্পষ্টীকরণ বা বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা উচিত, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কমপক্ষে ৬০ দিন পূর্বে ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং অন্তত ৩০ দিনের আপত্তি ও সংশোধনের সময়সীমা নির্ধারণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। সকল ই-ভোটিং ব্যবস্থার জন্য নির্বাচন পূর্বে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো তুলে ধরার পর আমিনুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আইনি ভিত্তি তুলে ধরেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক।
‘২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ধারা ২১ এ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ বা ইত্যাদির। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনি দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পরিষদ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা বা তফসিলে উল্লেখিত ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি উহা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করিতেছে না বা সংস্থার স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে মর্মে পরিষদের নিকট প্রতীয়মান হইলে উক্ত নির্বাহী কমিটি ভাঙিয়া দিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে একটি অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে।”
‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এই অবস্থানে উন্নীত হয়েছে যে, বর্তমান বিসিবি কমিটি গঠনে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণের দুর্বলতা ছিল, অনিয়ম ছিল। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসির কাছে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে। সেই ই-মেইলে এই কমিটিকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একই সাথে একটি ১১ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।’
এই অ্যাডহক কমিটি ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচিত কমিটি উপহার দিতে বাধ্য থাকবে বলে জানানো হয়। এই সময়ে ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো পরিচালনার জন্য এই অ্যাডহক কমিটি নির্বাচিত কমিটির মতোই ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবে।
