বাংলাদেশকে ১১৪ রানে গুটিয়ে সমতায় ফিরল পাকিস্তান

বাংলাদেশকে ১১৪ রানে গুটিয়ে সমতায় ফিরল পাকিস্তান

বল হাতেও মা’জ সাদাকাত দুর্দান্ত, ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ দলকেও ১১৪ রানে গুটিয়ে সমতায় ফিরল পাকিস্তান দল। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ স্বাগতিক বাংলাদেশ মিরপুরে হেরেছে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে। যদিও আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে থেমে যায়। পরে বৃষ্টির কবলে পড়ে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের টার্গেট নির্ধারিত হয় ২৪৩ রান।

সমতায় ফিরল পাকিস্তান মূলত মা’জ সাদাকাতের অলরাউন্ড নৈপুণ্যেই দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে। দুই ম্যাচ শেষে সিরিজ এখন ১-১। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তান দল ১১৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়। এবার বাংলাদেশ দলও ১১৪ রানেই গুটিয়ে গেছে। এখন রবিবার মিরপুরেই তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে দুই দলের মধ্যে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ।

টস হেরে আজও আগে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। তবে প্রথম ম্যাচের মতো শুরু থেকেই ধস নামেনি তাদের ইনিংসে। বরং উল্টোটা ঘটেছে- পাকিস্তানি ব্যাটাররা রীতিমতো তুলোধুনো করেছেন বাংলাদেশের বোলারদের। প্রথম পাওয়ার প্লে’র ১০ ওভারেই আসে বিনা উইকেটে ৮৫ রান।

উদ্বোধনী জুটি ভেঙেছে ১০৩ রানে ১৩তম ওভারের শেষ বলে। বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট চালানো মা’জ সাদাকাত মাত্র ৪৬ বলে ৬টি চার ও ৫টি ছয়ে ৭৫ রান করে বিদায় নেন। তাকে সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য পাইয়ে দেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।

অপরপ্রান্তে সাহিবজাদা ফারহান অনেকটাই শান্তশিষ্ট থেকে ব্যাট চালিয়েছেন। তবে তিনিও ১৮তম ওভারে ফিরতি স্পেলে আসা তাসকিন আহমেদের বলে সাজঘরে ফেরেন। ৪৬ বলে ২টি চারে ৩১ রান করেন সাহিবজাদা। এরপর পাকিস্তানের রান তোলার গতিতে হঠাৎ পতন ঘটে।

দেখেশুনে খেলতে থাকা শামিল হুসেইনকে (২২ বলে ৬) শিকার করেন প্রথম স্পেলে তিন ওভারে ৩২ রান খরচা করা নাহিদ রানা। এরপরও চতুর্থ উইকেটে ১০৯ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। এতে মনে হচ্ছিল ৩০০ পেরিয়ে যাবে পাকিস্তানের ইনিংস।

কারণ. ৬২ বলে ৭টি চার, ২টি ছক্কায় ৬৪ করে সালমান আগা রানআউট যখন হয়েছেন তখন পাকিস্তানের রান ৩৮.৪ ওভারে ২৩১। তবে এরপরই ছন্দপতন ঘটেছে পাকিস্তানের। পরবর্তী ব্যাটাররা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন ও মিরাজের অফস্পিনে পরবর্তী ৯ ওভারে মাত্র ৪৩ রানে ৭টি উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।

৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। রিজওয়ান ৫৯ বলে ৫টি চারে ৪৪ রানে আউট হন। রিশাদ ৯.৩ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে ৩টি এবং মিরাজ ১০ ওভারে দুটি মেডেনে ৩৪ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।

সমতায় ফিরল পাকিস্তান দল বাংলাদেশের বিপর্যয়ে

জবাব দিতে নেমে ১৫ রানেই ৩টি উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ৬.৩ ওভারে তিন উইকেটে ২৭ রান করার পর বৃষ্টি নামে। সোয়া দুই ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে ৩২ ওভারে বাংলাদেশকে ২৪৩ রানের টার্গেট দেওয়া হয় ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে।

লিটন দাস ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেই কঠিন লক্ষ্যটাকেও সহজ করে তুলছিলেন। কিন্তু ৩৩ বলে ৪টি চার ও ২টি ছয়ে তিনি ৪১ রানে মা’জ সাদাকাতের বাঁহাতি স্পিনে এলবিডব্লিউ হন। ৬০ রানের জুটি ভেঙে যায়। এরপর তার এবং হারিস রউফের সম্মিলিত বোলিং তোপে ধস নামে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে।

মাত্র ৪১ রানে শেষ ৭টি উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ পরবর্তী ৬৭ বলে। ২৩.৩ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১১৪ রানে। তাওহিদ হৃদয়ই শুধু ৩৮ বলে দুই বাউন্ডারিতে ২৮ রানের একটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছেন। হারিস ও সাদাকাত ৩টি করে উইকেট নেন। বোলারদের নৈপুণ্যেই সিরিজে সমতায় ফিরল পাকিস্তান দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান- ২৭৪/১০; ৪৭.৩ ওভার (সাদাকাত ৭৫, সালমান ৬৪, রিজওয়ান ৪৪, সাহিবজাদা ৩১; রিশাদ ৩/৫৬, মিরাজ ২/৩৪)।

বাংলাদেশ (টার্গেট ৩২ ওভারে ২৪৩)- ১১৪/১০; ২৩.৩ ওভার (লিটন ৪১, তাওহিদ ২৮,  আফিফ ১৪; সাদাকাত ৩/২৩, হারিস ৩/২৬, শাহীন ২/২২)।

ফল : ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে পাকিস্তান ১২৮ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা : মা’জ সাদাকাত।

সিরিজ : ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা।

Exit mobile version