পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার ইঙ্গিত

পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার ইঙ্গিত সরকারের বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় এবার কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান সরকার। টাইগারদের বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আইসিসির বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। তাই বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারাও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবে ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ সরকারের উচ্চপদস্থ এক সূত্রের মাধ্যমে জেনেছে, ফেডারেল সরকার ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য পিসিবিকে দল পাঠানোর অনুমতি হয়তো দেবে না।

বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার ইঙ্গিত

বাংলাদেশের সঙ্গে করা আচরণকে আইসিসির দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করছে তারা। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।

নিরাপত্তার কারণে বিসিবি ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে। যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা। এই পুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল। সবশেষ বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

বিশ্বকাপের দল ঘোষণা পাকিস্তানের

আজ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি প্রধান ইসলামাবাদে বৈঠক করবেন। সরকারের এক উর্ধ্বতন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য নিউজ জানিয়েছে,

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যতটুকু ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে করে সরকার সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে না।

আরও বলেন,

এটা শুধু ক্রিকেটের ব্যাপার না, নীতির ব্যাপার। বাংলাদেশকে তাদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির বিমাতাসুলভ আচরণে পাকিস্তান তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে।

বিশ্বকাপ বর্জনের আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তানের দল ঘোষণা

সরকারি সূত্রটি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে,

ক্রীড়া প্রশাসন কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের পছন্দের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না। একদিকে ভারত যখন ইচ্ছামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিরাপত্তার উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। ফলে আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে বিকশিত করতে চায়, তবে এই ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।

khela.live এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

Exit mobile version