দেশে সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, বাফুফে। তবে এবারের আয়োজন অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণ তৈরি করেছে। প্রথমবারের মতো দেশের সরকার প্রধান এই ম্যাচ দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে উপস্থিত থেকে পুরো ম্যাচ উপভোগ করেছেন। শুধু উপস্থিতিই নয়, ভিভিআইপি গ্যালারিতে না বসে তিনি ডাগআউট টেন্টে বসে ম্যাচটি দেখেন। বিষয়টি উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে। ম্যাচ শেষে তিনি দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতে মেডেল তুলে দেন, যা এ ধরনের প্রীতি ম্যাচে খুবই বিরল একটি দৃশ্য।

খেলা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি উপস্থিত সাবেক ফুটবলার, কোচ, সাংবাদিক এবং দর্শকদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বার্তা দেন এবং এমন আয়োজনকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাও।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

“নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরি এবং ক্রীড়াকে আরও পেশাদার কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।”

এ লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্কুলভিত্তিক খেলাধুলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন, যাতে তৃণমূল থেকেই প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসতে পারে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের আরও সফল দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,


বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং সাফল্য অর্জনের জন্য মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।


এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ক্রীড়ার সামাজিক গুরুত্বের দিকটিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন,


“খেলাধুলা শুধু সাফল্য বা পদক অর্জনের জন্য নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব এবং ঐক্যের বন্ধন তৈরি করে।”


তাই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার কন্যা জায়মা রহমান। তিনিও পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন এবং সাবেক ফুটবলার ও কোচদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাবেক ফুটবলারদের অনেকেই জানিয়েছেন, এমন একটি প্রীতি ম্যাচে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি এবং পুরো ম্যাচ দেখা সত্যিই বিরল ঘটনা। সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক জানান,


তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন উপস্থিতি কল্পনাও করেননি। সাধারণত এ ধরনের ম্যাচে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও কম থাকে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন তাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সরকার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

উপস্থিত ছিলেন না বাফুফে সভাপতি

উল্লেখ্য, এদিন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নিজেও লাল দলের হয়ে মাঠে খেলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে, এবারের স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ম্যাচ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনই নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Exit mobile version