অভিষেকেই বাজিমাত; নারী লিগের শিরোপা রাজশাহীর

শিরোপা নিশ্চিত করার পর রাজশাহীর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস

শিরোপা নিশ্চিত করার পর রাজশাহীর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস

ক্রিকেটের পর নারী ফুটবলেও অভিষেক আসরে শিরোপা জিতলো রাজশাহী। আজ লিগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রাজশাহী স্টারস জয় পেয়েছে ৩-০ গোলে।

কমলাপুরস্থ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিলো ড্র অর্থাৎ এক পয়েন্ট। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর লক্ষ্য ছিলো জয়। ম্যাচে অনেকটাই হেসেখেলে জয় তুলে নিয়েছে ঋতু পর্ণা চাকমা, শিউলি আজিম ও আফঈদা সুলতানারা।

‎প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ করে খেলেছে। তবে মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিলো সেনাবাহিনী। ধীরে ধীরে রাজশাহী দলের দুই নেপালী ফুটবলার ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। শুরুর দিকে রাজশাহীর বেশির ভাগ আক্রমণই সেনাবাহিনীর রক্ষণে এসে থমকে গেছে।

পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করা আলপি আক্তারও ম্যাচের প্রথমার্ধে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। বলা যায় সেনাবাহিনীর মেয়েরা তাকে বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর রাজশাহীকে আটকে রাখা যায়নি। গোল পেয়েছেন আলপিও। ম্যাচের অন্য দুই গোল এসেছে শাহেদা আক্তার রীপা ও ঋতুপর্ণার কাছ থেকে।

ম্যাচের ১৫তম মিনিটে রাজশাহী ফ্রি কিক পায়। কিন্তু ঋতুপর্ণা চাকমার শট সেনাবাহিনীর রক্ষণে আটকে যায়। এর দুই মিনিট পর সেনাবাহিনী সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি। গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে একা পেয়েও ব্যর্থ হন সেনাবাহিনীর তনিমা বিশ্বাস।

বিরতির আগমুহূর্তে শিউলি আজিমের কল্যাণে আরেক দফা বেঁচে যায় রাজশাহী। ফাঁকা পোস্টে দাঁড়িয়ে বল ক্লিয়ার করেন শিউলি। এই গোল পেয়ে গেলে লিড নিয়েই বিরতিতে যেতে পারতো সেনাবাহিনী। শেষ পর্যন্ত সেটা আর সম্ভব হয়নি।

বিরতির পর মাঠে নেমেই গোল উদ্‌যাপন করে রাজশাহী। ডান উইং দিয়ে সেনাবাহিনীর রক্ষণ ভাঙেন সৌরভী আকন্দ। তাঁর বাড়ানো পাস থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান আলপি। ম্যাচে ১-০ গোলে লিড নেয় রাজশাহী। ৫৯তম মিনিটে  ব্যবধান ২-০ করেন শাহেদা আক্তার। ঋতুপর্ণার ক্রস থেকে সরাসরি শটে জালে বল জড়ান এই ফরোয়ার্ড। ৮৮তম মিনিটে রাজশাহীকে তৃতীয় গোল এনে দেন ঋতুপর্ণা। অনেকটা ফাঁকা রক্ষণ পেয়ে কোনাকুনি শটে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত (৩-০) করেন জাতীয় দলের এই তারকা।

মাঠের অব্যবস্থাপনা

দেড় বছর বিরতির পর এবার মাঠে গড়িয়েছিলো নারী ফুটবল লিগ। অবশ্য, লিগ শুরুর আগে থেকেই মাঠের অব্যবস্থাপনা, সূচিসহ নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিলো।

এবারের ১১ দলের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ছাড়াও মাঠের খেলায় সাড়া ফেলেছিলো সেনাবাহিনী ও ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব।

গতবারের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি ১০ ম্যাচের একটিতে জয় পেয়েছে। সর্বোচ্চ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবারও অংশ নেয়নি। ১০ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে মৌসুম শেষ করলো রাজশাহী। সেনাবাহিনী মৌসুম শেষ করল ২৪ পয়েন্ট নিয়ে। ‎

রাজশাহী এবারই প্রথম নারী লিগে দল গড়েছে। যেমনটা তারা করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট বিপিএলে। ক্রিকেটের মতো এখানেও তারা প্রথম অংশগ্রহণে বাজিমাত করেছে।

Exit mobile version