এখুনি আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ ছাড়তে চান টেস্ট ক্রিকেট। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় এক যুগ পার করেছেন লেগস্পিন অলরাউন্ডার রশিদ খান। টেস্টে তার ক্যারিয়ার ৮ বছরের, তবে খেলেছেন মাত্র ৬টি। বেশিদিন ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে এখন এই লঙ্গার ভার্সন ছাড়তে চাইছেন তিনি।
২০১৫ সালে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করা রশিদ ছাড়তে চান টেস্ট। কারণ, পাঁচদিনের দীর্ঘ এই ফরম্যাটের জন্য শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষাটা অনেক বেশি পরিমাণেই দিতে হয়। ফিটনেস ধরে রাখাটাও চ্যালেঞ্জের।
সে কারণেই হয়তোবা টেস্ট ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না রশিদ খানকে। লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন আফগানিস্তানের এই স্পিনার। বুধবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো বোলিং করেছেন রশিদ। মাত্র ১৭ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট।
ম্যাচ শেষে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা জানান রশিদ। তার মতে, বেশি দিন ক্রিকেট খেলার স্বার্থেই টেস্ট ক্রিকেটকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রশিদ বলেন, ‘লাল বলের ক্রিকেট খেলা আমার পক্ষে কঠিন। আমাকে ডাক্তার বলেছেন, লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে।’
রশিদ ছাড়তে চান টেস্ট
চলতি বছর জুন মাসে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলার কথা আফগানিস্তানের। কিন্তু রশিদ হয়তো সেই ম্যাচে খেলবেন না। পিঠের অস্ত্রোপচারের পর টেস্ট খেলেছিলেন রশিদ। কিন্তু তার পরই চিকিৎসক এমন পরামর্শ দেন।

রশিদ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি অস্ত্রোপচারের পরও টেস্ট খেলেছিলাম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬৭ ওভার বল করেছিলাম। সেটা দেখে ডাক্তার বলেছিলেন, ‘তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? যদি তোমার বেশি দিন ক্রিকেট খেলার ইচ্ছা না থাকে, তা হলে টেস্ট খেলো।’
রশিদ জানিয়েছেন, তার টেস্ট খেলতে ভালো লাগলেও শরীর সেই সুযোগ দিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। রশিদ বলেন, ‘দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬৭ ওভার বল করেছিলাম। তার পর আবার পিঠে ব্যথা শুরু হয়েছিল। ডাক্তার বলেছেন, ‘তোমার এটা করা উচিত হয়নি। আবার পিঠে চোট পেলে সেরে ওঠার সম্ভাবনা কম। ডাক্তারের সেই কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার শুধু সাদা বলের ক্রিকেটই খেলব।’
আফগানিস্তান তুলনামূলকভাবে টেস্ট কম খেলে। ২০১৮ সালে শুরু করে রশিদ সেজন্য মাত্র ছয় টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ১১ ইনিংসে ১৮৬৪টি বল করে উইকেট নিয়েছেন ৪৫টি। ইনিংসে পাঁচবার ৫টি ও ম্যাচে তিনবার ১০টি উইকেট আছে তার।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩















