চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে নামলেই বদলে যায় রিয়াল-ভিনিসিয়ুস

১৭ মার্চ ম্যানচেস্টারের সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রাউন্ড অফ সিক্সটিনের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি থেকে দলের প্রথম গোলটি করেন। (ছবি: গেটি ইমেজেস)

১৭ মার্চ ম্যানচেস্টারের সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রাউন্ড অফ সিক্সটিনের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র পেনাল্টি থেকে দলের প্রথম গোলটি করেন। (ছবি: গেটি ইমেজেস)

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে রিয়াল মাদ্রিদ যেন এক ভিন্ন সত্তা। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর জয়ের অদম্য মানসিকতা সব মিলিয়ে তারা হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। সেই বাস্তবতারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল ব্রাজিলীয় ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-এর কণ্ঠে। তার মতে, ‘এই প্রতিযোগিতায় নামলেই বদলে যায় সবকিছু’।

ম্যানচেস্টার সিটি-র বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম লেগে সিটিজেনদের ৩-০ তে উড়িয়ে দিয়েছিলো রিয়াল। ফিরতি ম্যাচে ম্যানসিটির মাঠ- ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রিয়াল জয় তুলে নেয় ২-১ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলের জয়ে গ্যালাকটিকোদের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়। ফলে, বিদায় নিতে হয়েছে পেপ গার্দিওলার শক্তিশালী সিটিকে।

ভিনিসিয়ুস বলেন,

রিয়াল যখন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলে, তখন শুধু ক্লাবটির খেলোয়াড়রােই নয়, বদলে যায় তাদের সমর্থকরাও। উয়েফা ক্লাব পর্যায়ের টুর্নামেন্টে ক্লাবটির মানসিকতা একেবারেই আলাদা। এর অর্থ হলো, বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্যে রিয়াল সবসময় প্রস্তুত থাকে।

এবারের টুর্নামেন্টে প্রথম রাউন্ডে রিয়াল ছিলো অনেকটাই সাদামাটা। নক আউট পর্বের টিকিটের জন্য তাদের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডেই তারা যেন অন্য এক দল। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে সিটিকে নিয়ে তারা রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে। ফিরতি ম্যাচে ম্যানসিটি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও রিয়ালই ছড়ি ঘুরিয়েছে।

দলের পারফরমেন্সে হতাশ ম্যানচেস্টার সিটি কোপ পেপ গার্দিওলা। ছবি: গেটি ইমেজেস।

ম্যাচের ২০তম মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বের্নার্দো সিলভা। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। আর্লিং হালান্ড সমতা ফেরালেও, শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন ভিনিসিয়ুসই।

এই জয়কে দলের আত্মবিশ্বাসের বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন তিনি। তার মতে,

পুরো ম্যাচে বলের দখল প্রতিপক্ষের কাছে থাকলেও সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকেই এগিয়ে ছিল রিয়াল।

এবার সামনে আরও কঠিন পথ। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ। সেই বাধা অতিক্রম করলে সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। সব মিলিয়ে এবারের ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে রিয়ালের সামনে একের পর বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রিয়ালের ইতিহাস বলে এই মঞ্চেই তারা সবচেয়ে ভয়ংকর এক দল।

রিয়ালের সর্বোচ্চ শিরোপা

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের ১৫ শিরোপার ধারেকাছেও নেই অন্য কোন ক্লাব। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ী ইতালির ইতি মিলানের শো-কেসে আছে সাতটি ট্রফি। যৌথভাবে তৃতীয়স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ ও লিভারপুল জিতেছে ছয়টি করে শিরোপা। পরের স্থানে থাকা বার্সেলোনার সংগ্রহে আছে পাঁচটি ট্রফি।

Exit mobile version