পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে এটি ছিলো বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচে জয়ের নায়ক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফুটবলার রোনান সুলিভান। জোড়া গোল করে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন রোনান।
ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন দুই সহোদর ডেকলান সুলিভান ও রোনান সুলিভান। দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার। তবে প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি ডেকলান। অন্যদিকে, সুযোগ পেয়েই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন রোনান। পুরো ম্যাচজুড়ে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ সতর্ক ফুটবল খেলে। মাঝমাঠের দখল নিতে লড়াই করলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বাংলাদেশ আক্রমণে কিছু সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। অন্যদিকে পাকিস্তানও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অবশ্য কার্যকর আক্রমণ করতে পারেনি তারা। ফলে প্রথমার্ধ শেষ গোলশূন্য ভাবে।
দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে একটি ফ্রি-কিক থেকে অসাধারণ গোল করেন রোনান। দূরপাল্লার জোরালো শটে বল জালে জড়ান তিনি। পাকিস্তানের গোলরক্ষক বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
গোল করার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বাংলাদেশের তরুণরা। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন রোনান। দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে পাকিস্তানের রক্ষণভাগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এই সময় ব্যবধান বাড়ানোর বদলে লিড ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দেয় বাংলাদেশ।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে ভালো অবস্থানে উঠে এসেছে দলটি এবং সেমিফাইনালের পথে বড় ধাপ এগিয়ে গেছে।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ মার্চ। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত। তার আগে ২৬ মার্চ একই গ্রুপে পাকিস্তান খেলবে ভারতের বিপক্ষে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে উঠবে। যা অনুষ্ঠিত হবে ১ এপ্রিল। এরপর ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
বাংলাদেশ দল :
মো. ইসমাইল হোসেন মাহিন, মো. মিঠু চৌধুরী, ইহসান হাবিব রিদওয়ান, মো. কামাল মৃধা, চন্দন রায়, মো. মানিক, নাজমুল হুদা ফয়সাল, মো. মুরসেদ আলী, রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান, শেখ সংগ্রাম এবং মো. ইউসুফ আলী।
