ক্রীড়া ইনজুরি নিয়ে সেমিনার

ক্রীড়া ইনজুরি নিয়ে সেমিনার

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং রেজুভা ওয়েলনেস যৌথ উদ্যোগে ক্রীড়া ইনজুরি নিয়ে সেমিনার আয়োজন করে।

খেলাধুলার সঙ্গে ইনজুরি বা আঘাতের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রায় প্রতিটি খেলাতেই কোনো না কোনোভাবে শারীরিক ঝুঁকি থাকে, যা অনেক সময় একজন ক্রীড়াবিদের ক্যারিয়ারকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে ইনজুরির কারণে তারকা খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার অকালেই শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভাও ইনজুরির কারণে নিজেদের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারেননি। অথচ বাংলাদেশে ক্রীড়া ইনজুরি ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক ক্রীড়া চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম।

এই প্রেক্ষাপটে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) এবং রেজুভা ওয়েলনেস এর যৌথ আয়োজনে আজ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এর ডাচ-বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে ‘পিআরপি প্লাস: ক্রীড়ায় আঘাতে দ্রুত আরোগ্য’ শীর্ষক একটি ক্রীড়া ইনজুরি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারটিতে দেশের ক্রীড়া চিকিৎসা খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় পিআরপি প্লাস পদ্ধতি, যা ক্রীড়া আঘাতের চিকিৎসায় একটি আধুনিক ও কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বক্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে শরীরের নিজস্ব প্লেটলেট ব্যবহার করা হয়, ফলে এটি প্রাকৃতিক নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

অস্ত্রোপচার ছাড়াই ইনজেকশনের মাধ্যমে এই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হওয়ায় খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। স্টেরয়েড ইনজেকশনের তুলনায় এটি বেশি স্থায়ী উপশম দিতে সক্ষম বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

সেমিনারে রেজুভা ওয়েলনেসের কনসালট্যান্ট ডা. তৌহিদা রহমান ইরিন, অর্থোপেডিকসের সিনিয়র সার্জন অধ্যাপক ডা. পারভেজ আহসান এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফিজিও ও প্রখ্যাত ক্রীড়া ইনজুরি বিশেষজ্ঞ দলিলুর রহমান পিআরপি প্লাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা, প্রয়োগ এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

যারা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন

এছাড়াও জাতীয় ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটন ও জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু এবং সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম মামুন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে ইনজুরি ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা এবং এর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন।

ইনজুরি নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএসজেএর সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং সহ-সভাপতি রায়হান আল মুগনি। বক্তারা বলেন,

দেশের ক্রীড়াবিদদের উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১০ সালের এসএ গেমস-এ পুরুষ ফুটবলে বাংলাদেশের স্বর্ণজয়ের সময় দলটির সঙ্গে ছিলেন দলিলুর রহমান। তিনি বলেন,

খেলোয়াড়দের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ইনজুরি রেকর্ড ফাইল থাকা অত্যন্ত জরুরি, যা বাংলাদেশে এখনো সেভাবে প্রচলিত নয়।

দলিলুর রহমান

তার মতে, ফেডারেশন, খেলোয়াড় এবং গণমাধ্যম সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

Exit mobile version