পিএসএলে বল টেম্পারিং নিয়ে মুখ খুললেন শাহীন । পাকিস্তান সুপার লিগ পিএসএলে করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে বলের অবস্থা পরিবর্তনের অভিযোগে পাঁচ রান পেনাল্টি পাওয়ার ঘটনায় নীরবতা ভেঙেছেন লাহোর কালান্দার্সের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত রবিবার গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে করাচির ইনিংসের শেষ ওভারের আগে বল পরীক্ষা করে অন-ফিল্ড আম্পায়াররা সেটির অবস্থা পরিবর্তনের প্রমাণ পান। এর ভিত্তিতেই ফিল্ডিং দল লাহোর কালান্দার্সকে পাঁচ রান পেনাল্টি দেওয়া হয়, যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই সিদ্ধান্তে করাচির সমীকরণ সহজ হয়ে যায়। শেষ ওভারে ১৪ রান প্রয়োজন থাকলেও তা নেমে আসে মাত্র ৯ রানে। পরে আব্বাস আফ্রিদির টানা বাউন্ডারিতে চার উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় করাচি কিংস।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শাহীন আফ্রিদি এ বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না (বল টেম্পারিং নিয়ে), এবং আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। পাঁচ রান পেনাল্টি… কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারি না। আমরা দেখব।
বাঁহাতি পেসারের দলে সন্তোষ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে হতাশা
আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তে হতাশা থাকলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন এই বাঁহাতি পেসার। তার মতে, ব্যাটিং ইউনিট প্রত্যাশা অনুযায়ীই করেছে এবং ম্যাচটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তিনি বলেন,‘ এটি একটি ভালো ম্যাচ ছিল। আমরা শেষ বল পর্যন্ত লড়তে চেয়েছি, এবং দল চেষ্টা করেছে। দুই দলের ব্যাটিংই প্রায় একই রকম ছিল। আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটিং ভালোই ছিল, না হলে করাচি কিংস ১৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে যেত।
করাচি কিংসের বিপক্ষে লাহোর কালান্দার্সের মানসিক দুর্বলতা আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,কোনো মানসিক বাধা নেই। আমার দল শেষ বল পর্যন্ত লড়েছে, এটাই আমি আমার দলের কাছে চাই, যোগ করেন শাহীন।
উল্লেখ্য, ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে করাচি। তৃতীয় ওভারেই অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ৮ ও সালমান আলি আঘা ০ সাজঘরে ফেরেন। তারা দুজনকেই আউট করেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। তখন স্কোর বোর্ডে ছিল মাত্র ১০ রান।
এই ধাক্কা সামলে ইনিংস গুছিয়ে নেন মুহাম্মদ ওয়াসিম। সাদ বেগ ১৯ ও মঈন আলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। ওয়াসিম ৩৭ বলে ৩৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল তিনটি চার ও একটি ছক্কা।
তবে ১৫তম ওভারে শাহীন আবার আঘাত হানলে ওয়াসিম ও মঈন ১৮ পরপর বিদায় নেন। তখন করাচির সংগ্রহ ৮৮/৫, ম্যাচ আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ে। এই অবস্থায় খুশদিল শাহ ও আজম খান ষষ্ঠ উইকেটে ৩২ রানের মূল্যবান জুটি গড়ে ম্যাচে নতুন মোড় আনেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪ রান।
ঠিক তখনই ঘটে নাটকীয় ঘটনা। বল টেম্পারিংয়ের দায়ে লাহোরকে পাঁচ রান পেনাল্টি দেন আম্পায়াররা। ফলে করাচির লক্ষ্য নেমে আসে ৯ রানে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















