ক্রিকেটাররা যাচ্ছেন না শ্যুটাররা কিভাবে ভারতে খেলতে যায়?

ক্রিকেটাররা যাচ্ছেন না শ্যুটাররা কিভাবে ভারতে খেলতে যায়

ক্রিকেটাররা যাচ্ছেন না শ্যুটাররা কিভাবে ভারতে খেলতে যায়

এমনিতেই বাংলাদেশের শুটিং স্পোর্টসের অবস্থা যাচ্ছেতাই। ২০১৬ সালের পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে কোনও সোনার পদক জিততে পারেনি বাংলাদেশ। দিনকে দিন বাংলাদেশে এই খেলাটা শুধু তলানির দিকেই যাচ্ছে। আগের কমিটির সময়ও যেমন ছিল, জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সবার পরে ঘোষিত অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর সেটি আরও অধঃপতনের দিকেই যাচ্ছে।

কোনও ঘরোয়া প্রতিযোগিতা নেই। শুটিংয়ের উন্নতির জন্য কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং কমিটির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী শ্যুটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর তাকে অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। এই অবস্থায় শুটিং ফেডারেশন আরেকটি লেজেগোবরে কাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে ফেললো।

ঘটনা হচ্ছে ৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে শুরু হবে এশিয়ান রাইফেল ও পিস্তুল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে অংশ নেবেন বাংলাদেশের শুটার রবিউল ইসলাম ও কোচ শারমিন আক্তার। সেখানে বাংলাদেশ কোয়ালিফাই রাউন্ড পার হতে পারবে কিনা সন্দেহ! কারণ গুলশান শুটিং ফেডারেশনে ট্রেনিং তো হয়ই না, শুটারদের আত্মবিশ্বাস তলানির দিকে। শুধু একটা পিকনিক ট্যুর করতে ভারতে যাওয়ার জন্য শুটিং ফেডারেশন কেন এত মরিয়া বুঝতে পারছি না।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এর মানে কি দাঁড়াচ্ছে? যে সরকার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে খেলোয়াড় ভারতে পাঠাতে চায় না সেই সরকারই আবার ভারতে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে। শুধু ক্রিকেট আর v , পার্থক্য এটুকুই?

নিরাপত্তার অজুহাত নাকি রাজনৈতিক প্রভাব?

সবাই জানে উগ্রবাদীদের হুমকি-ধমকির কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে অনেক নিরীহ ভারতীয়ই আক্রমণের শিকার হচ্ছে, নিরাপত্তাশঙ্কায় তাই জাতীয় দলকে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে না পাঠানোটাই সাধারণ চোখে উপযুক্ত সমাধান মনে হয়েছে। কিন্তু, আইসিসিও যেহেতু ভারতের অধীনে, অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ সভাপতি, বাংলাদেশের ব্যাপারে জোর যার, মুল্লুক তার নীতি খাটিয়েছেন। বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ দিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। কিন্তু এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেও ভারত পাকিস্তানে না খেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছে। কি দ্বৈত নীতিরে বাবা আইসিসির!

বাংলাদেশের সামনে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে, এই বিশ্বকাপেই নিরাপত্তা-শঙ্কায় আরেকটা দল খেলছে শ্রীলঙ্কাতে, বাংলাদেশের উচিত ছিল, আইসিসির এই ভণ্ডামিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে নিয়ে যাওয়া। আর কোথাও না পারলেও মোদির ভারত যে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ভণ্ডামি করছে, সেটা অন্তত সবাইকে জানানোও যেত।

হয়তো বিশ্বকাপ স্থগিতও হতে পারত। কিন্তু, বাংলাদেশ সেসব কিছু করল না। বিনা বাক্যে মেনে নিলো আইসিসির সিদ্ধান্ত। উল্টো দিল্লিতে শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে বাংলাদেশের এক শ্যুটার আর কোচকে অনুমতি দিয়েছে সরকার।

তাহলে যে এতদিন ধরে নিরাপত্তাশঙ্কার আলাপ তোলা হলো, বাংলাদেশিদের জন্য ভারত নিরাপদ নয় বলা হলো, সেই লাইনটাই একেবারে ভণ্ডামি হয়ে যাচ্ছে। এখন আইসিসিও যদি বাংলাদেশকে শাস্তি দিতে চায়, তাহলে এই ঘটনাকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকারই বাংলাদেশি অ্যাথলেটকে ভারতে খেলতে অনুমতি দিয়েছে, একই সময়ে। ভারতে খেলার ব্যাপারে নিজেদের খোঁড়া গর্তে কি তাহলে নিজেরাই পড়তে যাচ্ছে না বাংলাদেশ?

লেখক পরিচিতি : ক্রীড়া সাংবাদিক।

Exit mobile version