পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) আজ দুই বাংলাদেশি শরিফুল আর রিশাদের লড়াই হয়েছে। লাহোরে হওয়া সেই লড়াইয়ে রাওয়ালপিন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে পেশোয়ার। বিগ স্কোরিং ম্যাচে রিশাদ হোসেনের রাওয়ালপিন্ডিজ ২০ ওভারে চার উইকেটে ২১৪ রান করে। পরে শরিফুল ইসলামের পেশোয়ার জালমি ১৯.১ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২১৮ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয়।
সবমিলিয়ে শরিফুল আর রিশাদের লড়াই আরও আকর্ষণীয় হতে পারতো যদি বাকি দুই বাংলাদেশি থাকতেন। তবে পেশোয়ার খেলায়নি তানজিদ হাসান তামিম ও নাহিদ রানাকে। টস জিতে রাওয়ালপিন্ডিজ ব্যাটিংয়ে নামে।
ইয়াসির খান ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ওপেনিং জুটিতে মাত্র ১২ ওভারেই করেন ১২৫ রান। এতেই বিশাল সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় রাওয়ালপিন্ডিজ। রিজওয়ান ৩২ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে ৪১ রানে আউট হলে জুটি ভাঙে। ফিফটি হাঁকিয়ে ইয়াসিরও ৪৬ বলে ৭টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৮৩ রানে সাজঘরে ফেরেন।
পরের দিকে কামরান গুলাম ২০ বলে ২টি চার, ৩টি ছয়ে ৩৭, ড্যারিল মিচেল ১৩ বলে ২টি ছয়ে ২৩ ও স্যাম বিলিংস ৮ বলে ২টি চার, ১টি ছয়ে অপরাজিত ১৮ রান করলে বড় সংগ্রহ পায় রাওয়ালপিন্ডিজ। চার উইকেটে ২১৪ রান করে তারা। আলি রাজা ৪২ রানে নেন ৩টি উইকেট।
জবাব দিতে নেমে ওপেনিং জুটিতে মোহাম্মদ হারিস ও বাবর আজম ৮.৩ ওভারে ৭৮ রান উপহার দেন। ২৮ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে বাবর ৩৯ এবং হারিস ২৮ বলে ৪টি চার, ২টি ছয়ে ৪৭ রানে আউট হন। কিন্তু পরের দিকে অ্যারন হার্ডি (৮) ব্যতীত বাকি ব্যাটাররা দারুণ ভূমিকা রাখেন।
শেষ পর্যন্ত পাঁচ বল হাতে রেখেই ৫টি উইকেট হারিয়ে ২১৮ রান করে জয় পায় পেশোয়ার। কুসল মেন্ডিস ১৭ বলে ১টি চার, ২টি ছয়ে ৩১, মাইকেল ব্রেসওয়েল ১৭ বলে ৩টি চার ও ২টি ছয়ে ৩৫ এবং আব্দুল সামাদ ১১ বলে ১টি চার, ৪টি ছয়ে ৩৩ রান করেন। আমাদ বাট দুটি উইকেট নেন।
শরিফুল আর রিশাদের লড়াই
শরিফুল আর রিশাদের লড়াইয়ে পারফরম্যান্সের দিক থেকে সমানে-সমান ছিলেন দু’জন। প্রথমবার পিএসএল খেলতে নামা বাঁহাতি পেসার শরিফুল পেশোয়ারের হয়ে বোলিংয়ের গোড়াপত্তন করেন। লাহোরের বিগ স্কোরিং উইকেটেও অন্য বোলারদের তুলনায় বেশ মিতব্যয়িতা দেখিয়েছেন। কোনো উইকেট নিতে না পারলেও শরিফুল চার ওভারে মাত্র ৩১ রান খরচা করেন।
প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ২০ রান দেওয়া শরিফুল ১৯তম ওভারে দু’টি ওয়াইড ও একটি নো-বল করে ১১ রান দেন। আর রিশাদ ব্যাট হাতেও নামতে পারেননি, আবার বল হাতে চার ওভারে ৩৫ রান দিয়ে একটি উইকেট নিয়েছেন। অবশ্য ১৬তম ওভারেই তিনি ১৮ রান খরচা করেন। তার আগে তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন রিশাদ।
ম্যাচে রিশাদ রান বেশি দিলেও উইকেটের দেখা পেয়েছেন। তাছাড়া তিনি রাওয়ালপিন্ডিজ বোলারদের মধ্যে ইকোনমি রেটের দিক থেকে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিলেন। আর শরিফুল রান কম দিয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাওয়ালপিন্ডিজ- ২১৪/৪; ২০ ওভার (ইয়াসির ৮৩, রিজওয়ান ৪১, গুলাম ৩৭, মিচেল ২৩; রাজা ২/৪২, হার্ডি ১/৩৬, জামাল ১/৪৩, মুকিম ০/২৮, শরিফুল ০/৩১)।
পেশোয়ার- ২১৮/৫; ১৯.১ ওভার (হারিস ৪৭, বাবর ৩৯, ব্রেসওয়েল ৩৫*, সামাদ ৩৩, কুসল ৩১; আমাদ ২/৪৫, রিশাদ ১/৩৫, আসিফ ১/৩৭)।
ফল : পেশোয়ার জালমি ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : মাইকেল ব্রেসওয়েল।
