নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয় বড় চমকই বলা যায়। কারণ অধিনায়কসহ নিয়মিত অনেক ক্রিকেটারই নেই, তবু প্রোটিয়ারা পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে। ক্রাইস্টচার্চে আজ সিরিজ নির্ধারণী শেষ টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বকাপ রানার্সআপ নিউজিল্যান্ডকে ৩৩ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার এই সিরিজ জয় অনেকটা বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জ্বালা মেটানোর মতো। কারণ, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় এবার দক্ষিণ আফ্রিকা। অথচ তার আগে পর্যন্ত এবার টি-২০ বিশ্বকাপে একমাত্র অপরাজিত দল ছিল প্রোটিয়ারা। সেই বিশ্বকাপ সমাপ্তের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হয়।
সিরিজে প্রথম টি-২০ ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডকে সাত উইকেটে হারিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। পরের দুই ম্যাচে কিউইরা ৬৮ রানে ও আট উইকেটে জিতে এগিয়ে যায়। চতুর্থ ম্যাচে প্রোটিয়ারা ১৯ রানের জয়ে সিরিজে সমতায় ফেরে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ লড়াই
আজ ক্রাইস্টচার্চে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। দলীয় ২১ রানে টনি ডি জর্জির (১৪ বলে ১২) উইকেট হারিয়ে ফেললেও দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি পায় প্রোটিয়ারা। উইয়ান মুল্ডার ২৯ বলে দুটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ৩১ রানে সাজঘরে ফিরলে এই জুটি ভাঙে।
রুবিন হারমানের সঙ্গে এরপর তৃতীয় উইকেটে কনোর এস্টারহুইজেন ৪৯ রানের জুটি গড়েন। হারমান ৩১ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ৩৯ রানে বিদায় নেন। এরপর এস্টারহুইজেন খেলেছেন বিস্ফোরক ইনিংস। তাই শেষ পাঁচ ওভারেই উঠেছে ৬২ রান।
শেষ ওভারের চতুর্থ বলে এস্টারহুইজেন আউট হওয়ার আগে করেন ৩৩ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছয়ে ৭৫ রান। তার সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৬১ রান যোগ করা ডিয়ান ফরেস্টার ১৩ বলে ১টি করে চার-ছয়ে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন।
২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে চার উইকেটে ১৮৭ রান। বেন সিয়ার্স দুটি উইকেট নেন। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন জ্যাক ফোকস ও জশ ক্লার্কসন।
জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৬৯ রানেই চারটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। টিম রবিনসন ২০ বলে ১টি চারে ২৫ ও ডেন ক্লিভার ১৭ বলে ৩টি চারে ২২ রানে আউট হয়ে যান। পঞ্চম উইকেটে বেভন জ্যাকবস ও জেমস নিশাম ৫২ রানের জুটি গড়েন।
বেভন জ্যাকবস ১৯ বলে ২টি চার ও ৩টি ছয়ে ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপরে আর বেশিদূর যেতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ২০ ওভারে আট উইকেটে ১৫৪ রান করতে পেরেছে তারা। নিশামও ২৪ বলে ২টি চারে ২৪ রানে আউট হয়েছেন। প্রোটিয়াদের হয়ে জেরাল্ড কোয়েটজি, উইয়ান মুল্ডার ও ওটনিল বার্টম্যান ২টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা- ১৮৭/৪; ২০ ওভার (এস্টারহুইজেন ৭৫, হারমান ৩৯, মুল্ডার ৩১, ফরেস্টার ২১*; সিয়ার্স ২/৩৭, ক্লার্ক)।
নিউজিল্যান্ড- ১৫৪/৮; ২০ ওভার (জ্যাকবস ৩৬, রবিনসন ২৫, নিশাম ২৪, ক্লিভার ২২; কোয়েটজি ২/২১, মুল্ডার ২/২৮, বার্টম্যান ২/৩৩)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : কনোর এস্টারহুইজেন।
সিরিজ : ৫ ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩-২ ব্যবধানে জয়ী।
সিরিজ সেরা : কনোর এস্টারহুইজেন (৫ ম্যাচে ২০০ রান)।
