লড়াই চলেছে সমানে-সমানে। মূল ম্যাচ শেষ হলেও কেউ হারেনি। পরে ম্যাচের ফয়সালা করতে সুপার ওভারে যেতে হয়েছে। সেখানেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই- প্রথম সুপার ওভার টাই। এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানস্তিানকে ৪ রানে হারিয়ে চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে তোলে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান। ১২ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটন ১১৪ রানের দারুণ জুটি গড়েন।

১৩তম ওভারে রশিদ খান জোড়া আঘাতে ব্রেক থ্রু দেন আফগানিস্তানকে। ডি কক ৪১ বলে ৫ চার, ৩ ছক্কায় ৫৯ রানে আউট হন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এদিন বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৭৩৭ রান করার রেকর্ড হয়েছে ককের। এবি ডি ভিলিয়ার্স ৭১৭ রান করে এতোদিন শীর্ষে ছিলেন। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৫টি করে হাফ সেঞ্চুরিও এখন দু’জনের।
দুই বল পর রিকেলটনকে এলবিডব্লিউ করে দেন রশিদ। তিনি ২৮ বলে ৫ চার, ৪ ছয়ে ৬১ রান করেছিলেন। পরবর্তীতে ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ১৯ বলে ১ চার, ১ ছয়ে ২৩ ও ডেভিড মিলার ১৫ বলে ১ চার, ১ ছয়ে ২০ রান করেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৪১ রানে ৩টি ও রশিদ ২৮ রানে ২টি উইকেট নেন।
গুরবাজ একাই প্রোটিয়া বোলারদের অগ্নিপরীক্ষায় ফেলেন
জবাবে ১৯.৪ ওভারে ১৮৭ রানেই থেমে যায় আফগানিস্তান। শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল। নাটকীয় সেই ওভারে কাগিসো রাবাদা দুটি নো ও একটি ওয়াইড করে ৪ বলেই ১২ রান দেন। ফলে বাকি ২ বলে জিততে মাত্র ১ রান দরকার ছিল আফগানদেন। তবে চতুর্থ বলটি ছিল ফ্রি হিট, সেই বলেই শেষ ব্যাটার হিসেবে রানআউট হন ফজলহক ফারুকি।
ম্যাচটিতে আফগানিস্তানকে এতোদূর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ একাই। তিনি ৪২ বলে ৪ চার ও ৭ ছক্কায় ৮৪ রানের রেকর্ডময় ইনিংস খেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত। এছাড়া বিশ্বকাপে এক ইনিংসে কোনো আফগান ব্যাটারের সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

আফগানরা ৫২ রানেই ৩ উইকেট হারায়। তবে গুরবাজ একাই প্রোটিয়া বোলারদের অগ্নিপরীক্ষায় ফেলেন। শেষদিকে ওমরজাই ১৭ বলে ৩ চারে ২২, রশিদ ১২ বলে ৩ চারে ২০ ও নূর আহমেদ ৯ বলে ২ ছক্কায় অপরাজিত ১৫ রান করেন। লুঙ্গি এনগিডি ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন।
সুপার ওভারের নাটকীয়তা
টাই হয়ে যাওয়া ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটাতে সুপার ওভারে নামে দুই দল। এনগিডির ওভারে আফগানিস্তান বিনা উইকেটে ১৭ রান করে। ওমরজাই ৫ বলে ২ চার, ১ ছয়ে করেন ১৬। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা ১ উইকেট হারালেও ১৭ রানই করলে আবার ম্যাচ টাই হয়।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে ওমরজাইয়ের বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৩ রান তোলে বিনা উইকেটে। ডেভিড মিলার ৪ বলে ২ ছক্কায় ১৬ রান করেন। আফগানিস্তান কেশব মহারাজের স্পিনে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯ রান করলে ৪ রানে জিতে যায় প্রোটিয়ারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা– ১৮৭/৬; ২০ ওভার (রিকেলটন ৬১, কক ৫৯, ব্রেভিস ২৩, মিলার ২০*; ওমরজাই ৩/৪১, রশিদ ২/২৮)।
আফগানিস্তান- ১৮৭/১০; ১৯.৪ ওভার (গুরবাজ ৮৪, ওমরজাই ২২, রশিদ ২০, নূর ১৫*; এনগিডি ৩/২৬, মহারাজ ১/২৭)।
ফল : টাই।
সুপার ওভার-১
আফগানিস্তান- ১৭/০ (ওমরজাই ১৬*, গুরবাজ ১*; এনগিডি ১-০-১৭-০)।
দক্ষিণ আফ্রিকা- ১৭/১ (স্টাবস ১০*, ব্রেভিস ৬, মিলার ১*; ফারুকি ১-০-১৭-১)
ফল: টাই।
সুপার ওভার-২
দক্ষিণ আফ্রিকা- ২৩/০ (মিলার ১৬*, স্টাবস ৭*; ওমরজাই ১-০-২৩-০)।
আফগানিস্তান- ১৯/১ (গুরবাজ ১৮*, নবি ০, ওমরজাই ০*; মহারাজ ১-০-১৯-২)।
ফল : দ্বিতীয় সুপার ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : লুঙ্গি এনগিডি।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















