বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির সদস্য ও দৈনিক সময়ের আলো–এর সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার রাজু আহমেদ রাসেল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪১ বছর। তার অকাল মৃত্যুতে সাংবাদিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সেদিন দুপুর প্রায় ২টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকেল ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজু আহমেদ রাসেলের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার মৌসামুরা গ্রামে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে তার বাবার অকাল মৃত্যুর পর তিনি ঢাকায় কর্মজীবন ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান এবং মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিলেন। সেখান থেকেই তিনি ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
রাজু আহমেদ রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া সাংবাদিকতায় নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কর্মজীবনে তিনি দৈনিক ডেসটিনি, যায়যায়দিন এবং সর্বশেষ দৈনিক সময়ের আলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পেশাদারিত্ব, সহমর্মিতা এবং নিষ্ঠা সহকর্মী ও পাঠকদের কাছে তাকে একজন আস্থাভাজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল।
মৃত্যুকালে তিনি তার মা, দুই বোন ও সহধর্মিণীসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এই অকাল প্রয়াণে সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিসিবি’র শোক
রাজু আহমেদ রাসেল–এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি’র মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো শোকবার্তায় মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজু আহমেদ রাসেল এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার জগতে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া সাংবাদিকতা করে গেছেন।
বিসিবি জানায়, কর্মজীবনে তিনি দেশে ও বিদেশে অসংখ্য ক্রিকেট ইভেন্ট কভার করেছেন। মাঠের খেলা, ক্রিকেটারদের গল্প এবং নানা ক্রীড়া আয়োজন নিয়ে তার প্রতিবেদন পাঠকদের কাছে সমাদৃত ছিল। তার পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা তাকে সহকর্মীদের কাছেও একজন শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিল।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩


















