রাজধানীর কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের অবস্থা জরাজীর্ণ। এই মাঠতিতে চরম অব্যবস্থাপনা একেবারে দৃশ্যমান। আজ দুপুরে এই স্টেডিয়ামটি আকস্মিক পরিদর্শন করতে যান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সার্বিক অবস্থা দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই অসন্তোষ ব্যক্ত করেন।
কমলাপুরের এই স্টেডিয়ামটি বেশ বড়। কারণ ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা রয়েছে মাঠটির। ২০১৩ সালে এই ভেন্যুকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে ২০ বছরের জন্য লিজ দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এরপর এই মাঠে কোটি টাকা খরচা করে বসানো হয় কৃত্রিম ঘাস। দেশের একমাত্র স্টেডিয়াম এটি যেটি আচ্ছাদিত আর্টিফিসিয়াল টার্ফে।
কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনার কারণে, অযত্ন ও অবহেলায় মাঠটির বেহাল দশা। আজ সরেজমিনে বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ করেন সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হক। মাত্র ১৫ দিন আগে তিনি নতুন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই করে নিয়ে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
আজ কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মাঠের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণের বেহাল দশা লক্ষ্য করেন। তিনি জানান, স্টেডিয়ামটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং এটি মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমনকি স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের অত্যন্ত মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও ব্লাস্ট চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ছয় দিন আগে চুরির ঘটনা ঘটে কমলাপুর স্টেডিয়ামে। খোয়া যায় ফ্লাড লাইটের ১১টি ব্যালাস্ট। এতেই বোঝা যায় এই ভেন্যুর নিরাপত্তা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কতটা উদাসীন। ব্যালাস্ট দেখতে ছোট হলেও প্রতিটার ওজন ২০ কেজির বেশি। একেকটার দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ১১টি ইউনিট চুরি হওয়ায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ছয় লাখ টাকা।
ক্ষুব্ধ আমিনুল যে নির্দেশনা দিয়েছেন
সব দেখেশুনে আমিনুলের মনে হয়েছে এই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম ও ভেতরের পরিবেশ খেলার অনুপযুক্ত। এ সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্বাহী পরিচালককে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির নির্দেশ দেন আমিনুল।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেন,‘এখানে স্টাফরা টিনশেড ঘর বানিয়ে থাকছেন, যা একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের জন্য কাম্য নয়। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাফুফেকে এটি সংস্কারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেব।’
তিনি আরও জানান, ফিফার ফান্ডের মাধ্যমে স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানা প্রাচীর উঁচু করা ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মুগদা থানার সহায়তায় সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মাঠের এমন নাজুক পরিস্থিতির পরও নিয়মিত এখানে বাফুফে বিভিন্ন খেলার আয়োজন করেছে। কিছুদিন আগেই এখানে মহিলা ফুটবল লিগ হয়েছে। আমিনুল দুর্দশাগ্রস্ত স্টেডিয়ামটিকে দ্রুততম সময়ে খেলোয়াড়দের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
