যে কারণে ৪০ দিন ট্রমায় ছিলেন তামিম! প্রায় ১০ বছর আগে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে ফিরেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ভয়ঙ্কর সেই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এখনও ভুলতে পারেনি তারা। সেবার অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে একটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়। সে সময় পাশেই ছিলেন সফরকারী ক্রিকেটাররা। সেই ঘটনার বর্ণনা দিলেন তামিম ইকবাল।
প্রায় ১০ বছর পর এক পডকাস্টে তামিম বলেন, ‘হোটেলে গিয়ে সবাই রিয়াদ ভাইয়ের রুমে ঢুকলাম, সেখান থেকে ভিডিও দেখছিলাম। সবাই কান্নাকাটি করে ৩-৪ জন করে এক রুমে ছিলাম। পরের ৪০ দিন আমার ট্রমা ছিল। এর থেকে বের হতে কিন্তু আমাদের অনেক দিন লেগেছে। আমরা সবাই পাঞ্জাবি, টুপি পরা। সে (আততায়ী) তো খুঁজতেছে মুসলিম। সে তো আগের দুই জুম্মায় এসে দেখে গেছে সময় ভুল করে এসেছে, ১০ মিনিট পরে আসলে র’ক্তের বন্যায় ভেসে যেত।’
এছাড়া জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা তামিম সেই ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘ মসজিদের কাছাকাছি যাওয়ার পর দেখলাম ২ জন পরে আছে। পরে দেখি আরও ৪-৫ জন পরে আছে। পরে একজন মহিলা আমাদের গাড়ি ব্লক করে কান্নাকাটি করছে। সাইডে দেখতেছি লা’শ পড়ে আছে সব। এখন আমরা তো বুঝতেছি না কী হয়েছে। মানুষ থেকে শুনেছি হা’মলা হয়েছে এবং ওরা (যারা হা’মলা করেছে) এখনও ভিতরে। কিছু বুঝতেছি না। এরপর হলিউড স্টাইলে পুলিশ আসলো।’
বাস ড্রাইভারের দেরি হওয়ায় ঘটনাক্রমে রক্ষা পান তামিমরা। বলছিলেন, ‘আমরা বাসে বসে আছি। নিউজিল্যান্ডের বাস ড্রাইভার সিগারেট খাচ্ছিল। আমাদের মত না কিন্তু, আমাদেরগুলা কী করত? দেখত যে আসছে, ফালায়ে দিয়ে চলে যাইত। সে পুরো সিগারেটটা খাবে। সময় নিয়ে সিগারেট খেয়েছে। সেখানে কিছু মিনিট দেরি হয়। এভাবে দেরি হয়েছে। এভাবে করে আমরা বেঁচে গেছি। আমরা সময়মতো চলে গেলে আমরা কেউ বাঁচতাম না, প্রথম গুলিটা আমি খাইতাম।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটো মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত হন। এসব ঘটনায় অন্তত ২০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। দেশটির তখনকার প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটি দেশটির ইতিহাসের ‘কালো দিনগুলোর’একটি বলেন। এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনজন পুরুষ এবং একজন নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে আরও হামলাকারী পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জানিয়েছেন আটককৃতদের একজন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।
