তানজিদের শতকে আজ মিরপুরে তৃতীয় ওয়ানডেতে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। ১১ রানে হারে পাকিস্তান। তানজিদের শতকে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান তোলে। জবাবে সালমান আলি আগার সংগ্রামী ১০৬ রানের ইনিংসের পরও তাসকিন-মোস্তাফিজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তান ৫০ ওভারে গুটিয়ে যায় ২৭৯ রানে।
তানজিদের শতকে অতি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তার ১০৭ বলে ১০৭ রান স্বাগতিকদের লড়াকু সংগ্রহ দিয়েছে। এই জয়ে সিরিজ শেষে আইসিসি র্যাঙ্কিংয় বাংলাদেশের ৯ নম্বরে উঠে আসা নিশ্চিত হয়েছে। টানা চারটি সিরিজ হারের পর টানা দুই সিরিজ জিতে রেটিং কিছুটা বাড়াতে পেরেছে টাইগাররা।
১১ বছর আগে দুই দল সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলে। ২০১৫ সালে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই সিরিজে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে পাকিস্তানকে। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত ৭টি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ মাত্র দুটিতে জয় পেল, পাকিস্তান জিতেছে ৫টি।

টস হেরে এদিন আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটেছিল, তাই এবার দেখেশুনে সতর্ক শুরু করে বাংলাদেশ। যদিও দুই ওপেনারের মধ্যে সাইফ হাসান ধীরস্থির ছিলেন কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম স্বভাবসুলভ আতক্রমণাত্মক মেজাজেই ব্যাট চালিয়েছেন।
তানজিদের শতকে বড় সংগ্রহ
পাওয়ার প্লে’র ১০ ওভারে তাই ৫০ রান তোলে বাংলাদেশ বিনা উইকেটে। সাইফ-তানজিদের ওপেনিং জুটি থামে ১০৫ রানে। তখন মাত্র ১৮ ওভার এক বল হয়েছে। সাইফ ৫৫ বলে ৩টি চারে ৩৬ রানে বিদায় নেন। দারুণ এই শুরুর পর দ্বিতীয় উইকেটে আরও ৫৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
তানজিদের শতকে বাংলাদেশ ভালো স্কোর পেয়েছে। যদিও শান্ত বেশিদূর এগোতে পারেননি। তিনি ৩৪ বলে ৩টি চারে ২৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এ সসময় রানের গতিও কমেছে বাংলাদেশের। এমনকি ৪৭ বলে ফিফটি পাওয়া তানজিদ ৯৮ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান।

কিছুক্ষণ পরেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ। ১০৭ বলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১০৭ রান করেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে লিটন কুমার দাস ও তাওহিদ হৃদয় ৬৮ রানের জুটি গড়লে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু লিটন ৫১ বলে একটি করে চার-ছক্কায় ৪১ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর শেষদিকে আর সেভাবে দ্রুত রান তুলতে পারেনি স্বাগতিকরা। তাছাড়া সালমান আলি আগা, হারিস রউফ ও শাহিন শাহ আফ্রিদিরা দারুণ বোলিং করেছেন।
শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৯০ রান করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। তাওহিদ ৪৪ বলে ৪টি বাউন্ডারিতে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানি বোলারদের অগোছালো বোলিংয়ে ২৬টি অতিরিক্ত রান পায় বাংলাদেশ। হারিস ১০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।
পাকিস্তান ইনিংসের শুরুতেই তাসকিনের ধাক্কা
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের পেসে সমস্যায় পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৭ রানেই তিন টপঅর্ডারকে হারায় তারা যার মধ্যে দু’জনই তাসকিনের শিকার হন। আরেকটি নাহিদ রানার শিকার। তবে চতুর্থ উইকেটে গাজি ঘোরি ও আব্দুল সামাদ দারুণ ব্যাটিং করে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন।

তবে ৫০ রানের জুটি ভেঙে যায় ফিরতি স্পেলে নাহিদ বোলিংয়ে এসে ঘোরিকে বোল্ড করে দিলে। ঘোরি ৩৯ বলে ৩টি চার ও একটি ছয়ে ২৯ রান করেন। কিছুক্ষণ পর ৪৫ বলে ৫টি চারে ৩৪ রান করা সামাদকে সাজঘরে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান।
৮২ রানে পাঁচটি উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। এরপর প্রতিরোধ গড়েন সালমান আগা ও সা’দ মাসুদ। ৭৯ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন তারা যাতে ভাঙন ধরিয়েছেন মোস্তাফিজই। সা’দ ৪৪ বলে ৫টি চারে ৩৮ রানে বিদায় নেন। কিন্তু এরপর সালমান আগা একাই লড়াই করে যান বাংলাদেশি বোলারদের বিপক্ষে।
সালমান আগার সংগ্রামী সেঞ্চুরি
সপ্তম উইকেটে ফাহিম আশরাফকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়ার পথে ৬০ বলে ফিফটি হাঁকান সালমান। ফিরতি স্পেলে এসে তাসকিন বোল্ড করে দেন ফাহিমকে (২০ বলে ৯)। কিন্তু ক্যারিয়ারে র ৫০তম ওয়ানডে খেলতে নামা সালমান আগা থামেননি। তিনি ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন।

মাত্র ৮৯ বলেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সালমান আগা। অষ্টম উইকেটে শাহিন আফ্রিদির সঙ্গে আরও ৫২ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের কাছে নিয়ে যান তিনি। তবে ৪৮তম ওভারে তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের তাঁবুকে স্বস্তি আনেন তাসকিন। সালমান ৯৮ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছয়ে ১০৬ রান করেন।
পরে শাহিন আফ্রিদিও ঝড় তুলেছেন। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে মাত্র ১৪ রান তরকার পড়ে পাকিস্তানের। কিন্তু রিশাদ হোসেন সেটি হতে দেননি। মাত্র দুই রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশ ১১ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় পায়। ৫০ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ৩৮ বলে দুটি করে চার-ছয়ে ৩৭ রানে আউট হন শাহিন।
তানজিদের শতকে এবং পড়ে তাসকিনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। তাসকিন ১০ ওভারে একটি মেডেনে ৪৯ রান দিয়ে ৪টি এবং মোস্তাফিজ ১০ ওভারে ৫৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। এ ছাড়া নাহিদ ১০ ওভারে ৬২ রানে নেন দুই উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ- ২৯০/৫; ৫০ ওভার (তানজিদ ১০৭, তাওহিদ ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬, শান্ত ২৭; হারিস ৩/৫২, আবরার ১/৪৯)।
পাকিস্তান- ২৭৯/১০; ৫০ ওভার (সালমান ১০৬, সা’দ ৩৮, শাহিন ৩৭, সামাদ ৩৪, ঘোরি ২৯; তা্সকিন ৪/৪৯, মোস্তাফিজ ৩/৫৪, নাহিদ ২/৬২)।
ফল : বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : তানজিদ হাসান তামিম।
সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
সিরিজ সেরা : নাহিদ রানা (৩ ম্যাচে ৮ উইকেট)।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩














