গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। শিরোপার এত কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। এবার সেই প্রোটিয়ারা আরও দুর্বার খেলেছে। একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠে তারা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে বিধ্বস্ত করে চরম হতাশ দলটি। অধিনায়ক এইডেন মার্করামের কণ্ঠে তা ফুটে উঠেছে ম্যাচ শেষে।
শক্তিশালী ও আয়োজক ভারতকে সুপার এইটে নাস্তানাবুদ করে জিতে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এমনকি ছন্দে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও পাত্তা দেয়নি। তার আগে গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডকেও ৭ উইকেটে বিধ্বস্ত করে প্রোটিয়ারা। টানা ৭ ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে সেই কিউইদের কাছেই হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরেকবার সেমিফাইনালে এসেই থামতে হলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ২০০৯ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও সেমি থেকে বিদায় নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। গতবার আক্ষেপ ঘুঁচিয়ে ফাইনালে উঠলেও হেরে রানার্সআপ হয়। এবার তাই শিরোপার হট ফেভারিট তকমা নিয়ে নামা দলটিও এগিয়ে যাচ্ছিল অপ্রতিরোধ্য গতিতে।
তাই হারের পর হতাশা প্রকাশ করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘আজকের এমন ফলাফলে খুবই হতাশ। তবে পুরো টুর্নামেন্টে ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতে গর্বিত। আগে নিজের আবেগটাকে সান্তনা দিতে হবে। তারপর দল হিসেবে বসে আলোচনা করব। আমাদের আবারও ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমরা ভীষণ হতাশ। তবে আরও শক্ত হয়ে, আরও ভালো দল হয়ে ফিরতে হবে আমাদের।’
অ্যালেন ও প্রতিপক্ষ নিয়ে মার্করামের অভিব্যক্তি
নিজেরা হারলেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করেছেন মার্করাম। কিউই ব্যাটার এবং বোলারদের নিয়ে তিনি বলেন,‘পরিস্থিতি বিবেচনায় শুরুতে তারা দারুণ বোলিং করেছে। তাদের বোলিং ইউনিটকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। আর কেউ যখন এমন একটি ইনিংস খেলে, তখন বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচ আপনার দিকে থাকে না।’
তিনি আরও বলেন,‘উইকেট দেখে ভালোই মনে হচ্ছিল। আমাদের হয়তো ১৯০ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল। তাহলে ম্যাচে থাকা যেত। কিন্তু দুই ওপেনারের কল্যাণে তারা পাওয়ার প্লেতেই দুর্দান্ত সূচনা পেয়ে যায়। ম্যাচ দ্রুত শেষ করে দেওয়ার জন্য ফিন অ্যালেন ও সাইফার্টের ইনিংসকে বড় কৃতিত্ব দিতে হবে।’
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ফিন অ্যালেনের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডে ৪৩ বল হাতে রেখে ১ উইকেটে ১৭৩ রান করে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। ২০২১ সালের পর আবার ফাইনালে পা রাখে তারা।
