আধুনিক গলফের কিংবদন্তি টাইগার উডস – কে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সন্দেহে (ডিইউআই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মার্টিন কাউন্টিতে। বিষয়টি নিয়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শেরিফ জন বাডেনসিয়েক জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে সাউথ বিচ রোডে দ্রুতগতিতে নিজের ল্যান্ড রোভার গাড়ি চালাচ্ছিলেন উডস। এ সময় একটি প্রেশার ক্লিনার বহনকারী ট্রাক ড্রাইভওয়েতে ঢোকার জন্য ধীরগতিতে গেলে সেটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। ফলে ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা লাগে এবং উডসের গাড়িটি উল্টে গিয়ে রাস্তার ওপর ঘষা খেতে খেতে কিছুটা দূরে গিয়ে থামে।
দুর্ঘটনাটি গুরুতর হলেও সৌভাগ্যবশত এতে কেউ আহত হননি। গাড়ি উল্টে যাওয়ার পর উডস নিজেই পাশের জানালা দিয়ে বের হয়ে আসেন। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, উডস হয়তো কোনো ধরনের মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে ছিলেন।
১৫ বারের মেজর জয়ী, ৫০ বছর বয়সী এই গলফার-এর বিরুদ্ধে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো, ডিইউআই এবং আইনানুগ পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ফ্লোরিডার এর আইন অনুযায়ী তাকে অন্তত আট ঘণ্টা আটক রাখা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই উডসের ওপর একাধিক পরীক্ষা চালানো হয়। যদিও পরে করা ‘ব্রেথঅ্যানালাইজার’ পরীক্ষায় তার শরীরে অ্যালকোহলের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি প্রস্রাব পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে তদন্তকারীদের ধারণা, অ্যালকোহল নয় বরং কোনো অন্য কোনো পদার্থের প্রভাবে তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যদিও তার গাড়ি থেকে কোনো মাদক বা ওষুধ উদ্ধার করা যায়নি।
শেরিফ আরও জানান, ওই সড়কের নির্ধারিত গতিসীমা ছিল ঘণ্টায় ৩০ মাইল, তবে দুর্ঘটনার সময় উডস ঠিক কত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলের চিত্র দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর বেশ কিছু দূর স্লাইড করে।
ট্রাম্প দুঃখ প্রকাশ
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন,
“এটি শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছে। আমি যতটুকু জানি, এটি একটি দুর্ঘটনা। তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু, একইসঙ্গে অসাধারণ একজন মানুষ।”
২০১৭ সালেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৭ সালে ডিইউআই সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন টাইগার উডস। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধের কারণে তার এমন অবস্থা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগ স্বীকার করেন।
এছাড়া ২০২১ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস- এ এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় উডসের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরবর্তীতে তাকে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাকিলিস টেন্ডন ইনজুরি ও পিঠের অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক গলফের বাইরে থাকলেও, বর্তমানে তিনি পিজিএ ট্যুর এর ‘ফিউচার কম্পিটিশন কমিটি’র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই নতুন ঘটনায় তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও জনমত – দুটিই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
