পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়তে চায় টাইগাররা

পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়তে চায় টাইগাররা

পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়তে চায় টাইগাররা। ২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর কেটে গেছে লম্বা সময়।তবে প্রতিপক্ষ যখন পাকিস্তান, তাই মলিন ছবিগুলোই তো আবার তারতাজা হয়ে ওঠার কথা। সেই রোমাঞ্চ অবশ্য খুব একটা নাড়া দিচ্ছে না ফিল সিমন্সকে। নতুন সুখস্মৃতির জন্ম দিতে চান বাংলাদেশ কোচ।

নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের আগে বুধবার মিরপুরে অনুশীলন শুরুর আগে কোচ বলেন, ‘ওটা (২০২৪) ইতিহাস। ওটা ইতিহাস। সেই ইতিহাস এখন অতীত। আপনি ইতিহাস নিয়ে কথা বলছেন। আমরা এখন নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। এজন্যই আমরা শুক্রবারের দিকে তাকিয়ে আছি এবং দেখতে চাই কী হয়। তখন কী হয়েছিল তা কোনো ব্যাপার না।’এছাড়া তিনি বলেন,‘ হ্যাঁ, এটা মাথায় থাকতে পারে, আগের ম্যাচটা জেতার ব্যাপারটা ভেতর থেকে একটা উদ্দীপনা দেয় বটে। তবে এটা একটা নতুন খেলা, নতুন জায়গা। আমরা এখন বাংলাদেশে আছি, পাকিস্তানে নই। তাই আমাদের সেই সবকিছু পেছনে ফেলে শুক্রবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।’

তবে বাস্তবতা হলো, সেবারের সাফল্যের কারণে এবার প্রত্যাশার পরিধিও বেশি। কোচ যদিও বলছেন, দলের ভেতর প্রত্যাশার পরদ সবসময় স্বাভাবিকই থাকে। তিনি বলেন,‘আমার মনে হয়, ড্রেসিংরুমের ভেতরের চেয়ে বাইরেই প্রত্যাশাটা ৯৫ শতাংশের বেশি। ড্রেসিংরুমের ভেতরের প্রত্যাশার চেয়ে আপনাদের (মিডিয়ার), সাধারণ মানুষের এবং বাকি সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রস্তুতি নিই এবং খেলার জন্য মুখিয়ে থাকি।’এছাড়া প্রধান কোচ বলেন,‘ গত সিরিজ থেকে বয়ে আসা প্রত্যাশা আমাদের কোনো সাহায্য করে না। তাই আমরা চেষ্টা করি সেগুলোকে ড্রেসিংরুমের বাইরে রাখতে। সুতরাং আমার মনে হয়, ভেতরের চেয়ে বাইরের চাপটাই বেশি।’

সবশেষ বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর পেরিয়ে গেছে সাড়ে পাঁচ মাস। গত কয়েক মাসে বেশির ভাগ ক্রিকেটার ব্যস্ত ছিলেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। বিপিএলের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ছিল গত মার্চে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হলো মাত্রই। টেস্ট দলের অনেকের জন্যই তাই বড় চ্যালেঞ্জ সাদা বল থেকে লাল বলে মানিয়ে নেওয়া। সিমন্স যদিও ক্রিকটীয় ব্যাপারের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে মানিয়ে নেওয়াকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। তিনি বলেন,‘এখানে মানসিক পরিবর্তেই মূল ব্যাপার। এছাড়াও বেশ কজন আছেন, যারা সাদা বলের ক্রিকেট খেলেননি, গত কয়েক মাস ধরে লাল বলের ক্রিকেট খেলছে ও অনুশীলন করছে। তাই আমার মনে হয়, এই পরিবর্তনটা আপনার ধারণার চেয়েও সহজ হবে।’

সালাউদ্দিন জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,‘ আমার চিন্তা হলো এটা কেবল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সাহায্যই করতে পারে। যদি সে (সালাউদ্দিন) সেখানে (এইচপিতে) দায়িত্বে থাকে। আমরা দল হিসেবে কী করতে চাই সে সেটা খুব ভালোভাবেই জানে। ফলে সেখানে গিয়ে সে সেসবই খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ এবং জাতীয় দলের মাঝের যে লাইনটা সেটাই সৃষ্টি করতে হবে। এখানে আমি দলের লাভই দেখছি।’

দলের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন,‘ প্রত্যাশা ৯৫% এর বেশি ড্রেসিংরুমের বাইরে। আমরা ড্রেসিংরুমে কেবল প্রস্তুতি নেই এবং মাঠে গিয়ে খেলি। আগের সিরিজ থেকে কী প্রত্যাশা আসছে এগুলো আসলে আমাদের জন্য কাজে দেবে না।’

Exit mobile version