সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ২৭৪ রানে থামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তানিরা। যদিও শেষ দিকে টাইগার বোলার-ফিল্ডারদের দারুণ প্রত্যাবর্তনে ৩০০ রানের আগেই থেমেছে তাদের ইনিংস। শেষ ৪৩ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। এই ম্যাচে জিতলেই এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ২৭৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করেছে পাকিস্তান। এদিন মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান এবং মাজ সাদাকাত মিলে দলকে দারুণ শুরু এনে দেন। বেশি আগ্রাসী মাজ।
তবে উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন তিনি। হাঁকিয়েছেন দারুণ এক ফিফটিও। সাহিবজাদাও ছন্দে ছিলেন। দেখেশুনে ধীরেসুস্থে এগিয়েছেন। ওপেনিং জুটিতে এসেছে ১০৩ রান। ৪৬ বলে ৭৫ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে বিদায় নিয়েছেন মাজ সাদাকাত, তাকে ফিরিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দলের ১২১ রানের মাথাতে থেমেছেন সাহিবজাদাও। তাকে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ৪৬ বলে ৩১ রান করে বিদায় নেন সাহিবজাদা।
তিনে নামা শামিল হুসাইনও বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি। ২২ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। তাকে ফিরিয়েছেন নাহিদ রানা। ১২২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। এরপর দ্রুত শীর্ষ ৩ ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। এরপর দলের হাল ধরেছেন সালমান আলী আঘা এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রান তুলেছেন দুজন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট।
দারুণ ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নেন রিজওয়ান-আঘা। দুজনের ব্যাটে ভর করে আবারও আলোর দিশা পায় পাকিস্তান। পরিস্থিতি বুঝে রানের গতিও বাড়িয়েছেন দুজন। ব্যাট হাতে আগ্রাসী মেজাজ দেখিয়েছেন আঘা। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও। ফিফটির পর যদিও বেশি দূর আগাতে পারেননি সালমান আঘা। নিজের নির্বুদ্ধিতায় হয়েছেন আউট। মেহেদী হাসান মিরাজকে বল কুড়িয়ে দিতে গিয়ে নিজেই চলে যান নন স্ট্রাইকিং এন্ডের ক্রিজের বাইরে।
মিরাজ বল নিয়ে করে দেন স্টাম্পে থ্রো, ভেঙে যায় স্টাম্প, ফলে রান আউট। ব্যস, আউট আঘা। ৬২ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে দলের ২৩১ রানের মাথাতে সাজঘরে ফিরে যান সালমান আঘা। বিদায় নেওয়ার সময় রাগে-ক্ষোভে ফুঁসছিলেন তিনি। রিজওয়ান এবং সালমান মিলে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেছিলেন ১০৯ রান, ১১৫ বলে।
এরপর রিজওয়ানও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ফিফটির খুব কাছে গিয়ে বিদায় নিয়েছেন। ৫৯ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলে রিজওয়ান থেমেছেন দলের ২৩১ রানের মাথাতেই, সেই একই ওভারের শেষ বলে। রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানিয়ে রিজওয়ানকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
শেষ দিকে সেভাবে লড়তে পারেনি পাকিস্তান। একের পর এক উইকেট হারিয়েই গেছে। ১৩ বলে ৯ রান করা হুসাইন তালাতকে ফিরিয়েছেন রিশাদ হোসেন। ৭ বলে ১১ রান করে আবদুল সামাদ হয়েছেন রান আউট। ফাহিম আশরাফ ১৫ বলে ১৪ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হয়েছেন। শেষ দিকে শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করেছেন রিশাদ। ৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রান তুলে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। মাত্র ৪৩ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা।
বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন রিশাদ হোসেন। ২ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১টি করে উইকেট তুলেছেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানা।
