দুই সাবেক ফুটবলার হাফিজ-আমিনুল ঠাঁই পেলেন মন্ত্রিসভায়

দুই সাবেক ফুটবলার হাফিজ-আমিনুল ঠাঁই পেলেন মন্ত্রিসভায়

দুই সাবেক ফুটবলার হাফিজ-আমিনুল ঠাঁই পেলেন মন্ত্রিসভায়, ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ শপথ নিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। সেখানে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন দুই সাবেক ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম ও আমিনুল হক। মেজর হাফিজ পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে আর আমিনুল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জিততে পারেননি, নয়তো তিনি হতে পারতেন পূর্ণ মন্ত্রী। এখন টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।

টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রী হয়ে রেকর্ড আমিনুলের

ক্রীড়াঙ্গন থেকে মন্ত্রী হওয়ার সংখ্যা বাংলাদেশে কম নয়, তবে সাবেক ক্রীড়াবিদদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড কারও নেই। এবার ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে সেই রেকর্ড ভাঙলেন আমিনুল। আলী আসগর লবি থেকে শুরু করে অনেক নামই উঠে আসছিল সম্ভাব্য ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার তালিকায়।

টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আমিনুল, ছবি : সংগৃহীত

সবমিলিয়ে মন্ত্রিসভায় মোট তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় ঠাঁই পেয়েছেন। এর মধ্যে একমাত্র প্রতিমন্ত্রী আমিনুল। বাকি দুজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।  নব্বইদশকের মাঝামাঝি আমিনুলের ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোলরক্ষক।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৯৯৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৪৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন আমিনুল। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। ২০১০ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসেও বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে স্বর্ণপদক জয়ের গৌরব আছে তার।

ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলারদের একজন ছিলেন আমিনুল। ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান, শেখ জামাল, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সব শীর্ষ ক্লাবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে ২০১৩ সালে রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল। সেজন্য দীর্ঘ সময় তাকে নানা জেল-জুলুম সইতে হয়েছে তাকে।

ফুটবলার থেকে মন্ত্রী হওয়ার সূচনা করেন মেজর (অব.) হাফিজ

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজ প্রথম মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। এরপর সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। এবার হলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হলেন আমিনুল। অর্থাৎ দেশের ইতিহাসে তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রিত্ব লাভ করলেন তিনি।

অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মেজর হাফিজ এবারও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি সাবেক ফুটবলার এবং একজন বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ফুটবলার থেকে মন্ত্রী হয়ে ওঠার যে ধারা তার সূচনা হয়েছে মেজর (অব.) হাফিজের মাধ্যমে।

মন্ত্রিত্ব পাওয়া তিন সাবেক ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ, আমিনুল ও আরিফ খান জয়, ছবি : খেলা.লাইভ সম্পাদিত

১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন। স্বাধীনতার পর স্ট্রাইকার হিসেবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ১৯৭৩ সালের ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগে ফায়ার সার্ভিসের বিপক্ষে ৬-০ গোলের ম্যাচে একাই ছয় গোল করে ডাবল হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব গড়েন। স্বাধীন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে যা ছিল প্রথম।

খেলা থেকে অবসরে যাওয়ার পর মেজর হাফিজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। অ্যাথলেটিকসেও ছিল তার সাফল্য- স্বাধীনতার আগে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন।

রাজনীতিতে এসে ১৯৮৬ সালে ভোলা থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে স্বতন্ত্র ও বিএনপির হয়েও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এর আগে তিনবার মন্ত্রিত্ব পাওয়া এই রাজনীতিক নতুন সরকারেও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

এছাড়া ক্রীড়াঙ্গন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন আরও কয়েকজন। তারা হলেন- মাহবুব হারান গিনি,আব্দুস সালাম মুর্শেদী,নাইমুর রহমান দুর্জয়,সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে তাদের কেউ মন্ত্রিত্ব পাননি। তাই এখন পর্যন্ত ফুটবলার থেকে মন্ত্রী হওয়ার ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে থাকলেন মেজর হাফিজ, আরিফ খান জয় ও আমিনুল হক। 

Exit mobile version