অচলাবস্থার মধ্যেও থামবে না যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট

অচলাবস্থার মধ্যেও থামবে না যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট

যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট দলের খেলয়াড়রা। ছবি: কা্লেক্টেড

অচলাবস্থার মধ্যেও থামবে না যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট ।প্রশাসনিক বিপর্যয়ের ধাক্কা যেন মাঠের ক্রিকেটারদের ওপর না পড়ে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাই এখন আইসিসির মূল লক্ষ্য।

গত সেপ্টেম্বরে আইসিসির সদস্যপদ সংক্রান্ত নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ডের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরপরই আর্থিক সংকটে পড়ে দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করে ইউএসএ ক্রিকেট।

এই অচলাবস্থার মধ্যে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যাতে আর্থিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে আইসিসি। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের হাই পারফরম্যান্স প্রোগ্রামের সব কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজন হলে সরাসরি অর্থায়ন করবে তারা। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে নির্বাচিত ও চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বেতন পরিশোধের ব্যবস্থাও থাকবে।

আগামী জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের। এরপর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে।

আইসিসি আরও জানায়, দেউলিয়া ঘোষণার পর তারা খেলোয়াড় ও হাই পারফরম্যান্স স্টাফদের বেতন পরিশোধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ইউএসএ ক্রিকেট। ফলে এখন আইসিসি বিকল্প পথ খুঁজছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি খেলোয়াড়দের অর্থ পরিশোধ করা যায়।

আইসিসির লক্ষ্য একটাই, যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের প্রশাসনিক সংকট যেন কোনোভাবেই লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে তাদের অংশগ্রহণে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক সংকট চলছে। এই সংকট নিরসনে আইসিসির নরমালাইজেশন কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) সহ যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলোর অনুমোদন ও পরিচালনা নিয়েও নজরদারি অব্যাহত রাখবে আইসিসি।

সব মিলিয়ে, বোর্ডের ভাঙনের মধ্যেও মাঠের ক্রিকেট যেন থেমে না যায়, সেটাই এখন আইসিসির সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

Exit mobile version