আমিনুলকে অভিনন্দন জানিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাশার ঢেউ

আমিনুলকে অভিনন্দন জানিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাশার ঢেউ

আমিনুলকে অভিনন্দন জানিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে প্রত্যাশার ঢেউ, ছবি : সংগৃহীত

সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হক প্রথম টেকনোক্র্যাট ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়ে দেশের ইতিহাসে বিরল নজির স্থাপন করেছেন। তাকে নিয়ে এখন ক্রীড়াঙ্গনে উচ্ছ্বাস এবং অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন তিনি। সেই সঙ্গে ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক অনেক কিছুই প্রত্যাশা করছেন আমিনুলের কাছে।

দেশের দুই শীর্ষ ক্রীড়া ফেডারেশন ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আমিনুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল স্বাক্ষরিত অভিনন্দন পত্রে ফুটবল ও ক্রীড়াঙ্গন তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দেশের বাইরে রয়েছেন৷ বিসিবির এক বিবৃতিতে সাবেক এই কীর্তিমান ফুটবলার মন্ত্রী হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে ভালো কিছুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আমিনুল টেকনোক্র্যাট হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল, ক্রিকেটের বাইরে অন্য ফেডারেশনগুলোও নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ফেডারেশনের পাশাপাশি ক্রীড়াবিদ, সংগঠকরা ব্যক্তিগতভাবেও অভিনন্দন জানিয়ে যাচ্ছেন। ক্রীড়া সাংবাদিকদের তিন সংগঠন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ), বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ), বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস কমিউনিটি পৃথক পৃথক অভিনন্দন বার্তা দিয়েছে।

ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের চাওয়া

সাবেক ও বর্তমান অনেক বিখ্যাত ক্রীড়াবিদরাও আমিনুলের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইতিবাচক অনেক কিছুরই প্রত্যাশা জানিয়েছেন। উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার কিংবদন্তি দাবাড়ু নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আমিনুলকে ক্রীড়া মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) করায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। কারণ তিনি ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাদেক হোসেন খোকা ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনের কোনো লোক ক্রীড়াঙ্গনে সেভাবে দায়িত্ব নেয়নি এবং কাজও করেনি। আরিফ খান জয় উপমন্ত্রী থাকলেও সবাইকে হতাশ করেছেন। আমি চাই আমিনুল দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।’

আমিনুলের এক সময়ের মাঠের সতীর্থ ও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ময়দানের অন্যতম সঙ্গী সাবেক জাতীয় ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী বলেছেন,‘ভাই অত্যন্ত পরিশ্রমী। বিশেষ করে দল ও ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। বিএনপির যে ভিশন সেটা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি সেটা বাস্তবায়ন করে জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গন সচল রাখবেন।’

জাতীয় ফুটবল দলে আমিনুলের দীর্ঘদিনের রুমমেট সতীর্থ গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বলেছেন,‘নির্বাচনে তার জয় প্রত্যাশিত ছিল। হারের পরও দল তাকে মূল্যায়ন করেছে এতে আমরা ক্রীড়াঙ্গনের সবাই সম্মানিত হয়েছি। আমিনুল ফুটবলার হলেও আমি চাই ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলাতেও সে সমান নজর দেবে। সকল খেলোয়াড় খেলোয়াড় যেন সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে সমাজে চলাচল করতে পারে।’

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক বলেছেন, ‘আমিনুল এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন গতানুগতিকভাবে চলছে অনেক দিন থেকে। ঝিমিয়ে পড়া এই ক্রীড়াঙ্গনে একটি বিপ্লব বা পরিবর্তন দরকার। আশা করি আমিনুল সেটা করতে পারবে।’

ফুটবলার ছাড়াও যারা আশান্বিত

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ কামরুন নাহার ডানা বলেছেন,‘ক্রীড়া একটি বিশেষায়িত বিষয়। এই সম্পর্কে যাদের ধারণা রয়েছে, তারা দায়িত্ব পেলে ভালো হয়। আমিনুল একজন বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃত্ব তার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রমাণ দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে এই আশা করাই যায়।’

ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রতিবাদী কন্ঠস্বর আন্তর্জাতিক স্বর্ণজয়ী শুটার শারমিন আক্তার রত্না বলেছেন,‘আমিনুল ভাই ক্রীড়াঙ্গনের সকল বিষয়ে অত্যন্ত অবগত। বিশেষ করে গত এক দেড় বছরে যা ঘটেছে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। আমিনুল ভাই আসায় আমরা আশা করি ক্রীড়াবিদরা সকল বিষয়ে সকল ন্যায্য অধিকার পাবে এবং অন্যায়কারীদের যথাযথ শাস্তি হবে।’ 

Exit mobile version