ভারোত্তোলক মাবিয়া ২ বছর নিষিদ্ধ

ভারোত্তোলক মাবিয়া ২ বছর নিষিদ্ধ

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ২ বছর নিষিদ্ধ। ২০১৬ ও ২০১৯ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতেছিলেন। বিশেষ করে ২০১৬ সালে কিশোরী মাবিয়ার স্বর্ণ জয়ের পর কান্নার ছবি পুরো দেশবাসীকে স্পর্শ করেছিল। সেই মাবিয়া সম্প্রতি ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতা থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি কিংবা এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের আওতায় প্রতিযোগিতাগুলোতে ক্রীড়াবিদদের ডোপ টেস্ট করা হয়। নভেম্বরে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে ভারোত্তোলক মাবিয়ার নমুনা ২৯ অক্টোবর ঢাকায় নেওয়া হয়।

এছাড়া  নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেই নমুনায় ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ওয়ার্ল্ড এন্টি ডোপিং এজেন্সি (ওয়াডা)। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মাবিয়াকে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এই শাস্তি কার্যকর হয়েছে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে।

তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করবেন ভারোত্তোলক মাবিয়া,‘ বৃহস্পতিবার অলিম্পিক থেকে আমি চিঠি পেয়েছি। ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে এমনটা চিঠিতে লেখা আছে। আমি আপিল করব।’

বাংলাদেশের মাবিয়া গত এক যুগে অনেক আন্তর্জাতিক গেমস ও টুর্নামেন্টে খেলেছেন। অসংখ্যবার ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা দিয়েছেন। কখনও পজিটিভ হননি। এবার এরকম বিপত্তি হওয়ার কারণ ওষুধ গ্রহণ। যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব সময় বলা হয়েছে একটা নাপা খেলেও যেন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন থাকে। পেসক্রিপশন ছাড়া কোনও ওষুধ যেন না খাওয়া হয়। আমার পা ব্যথা ও ফোলা ছিল। এজন্য ওষুধ খেয়েছি, সেটার পেসক্রিপশনও ছিল।’

মাবিয়া ডারউইক্স জাতীয় ওষুধ সেবন করেছিল। যা রক্তচাপ কমানো, হৃদযন্ত্রের ফেলিওর, শরীর থেকে পানি বের করার জন্য অনেক সময় চিকিৎসকরা দিয়ে থাকেন। শারীরিক কারণে এটা মাবিয়ার প্রয়োজন থাকলেও ভারত্তোলনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যে কারণে তাকে এই শাস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।

এন্টি ডোপিং নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করা চিকিৎসক এই বিষয়ে বলছেন, ‘খেলা ও নিজের স্বাস্থ্যের মধ্যে অবশ্যই স্বাস্থ্য আগে, ফলে কোনো ক্রীড়াবিদের স্বাস্থ্যগত কারণে যদি কোনো ওষুধ খেতে হয় যেটা ডোপিং লিস্টের মধ্যে রয়েছে, তখন সেটা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন কিংবা এন্টি ডোপিং কমিটির ডাক্তারকে জানাতে হয়। তখন তারা আন্তর্জাতিক ডোপিং, ফেডারেশন অথবা সংশ্লিষ্ট গেমসের ডাক্তারদের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করবে। তারা যদি অনুমতি দেয় তখনই কেবল সেই ওষুধ সেবন করা যাবে, অন্যথায় নয়।’

ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ অত্যন্ত অভিজ্ঞ সংগঠক। মাবিয়া আক্তার সীমান্ত তার হাতেই গড়া ভারোত্তোলক। মাবিয়ার এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি ফেডারেশন জানে না। এটি সম্পূর্ণ তার এবং অলিম্পিকের বিষয়।’

এই বিষয়ে এবং ওয়াডার সার্টিফাইড ব্যক্তিগণই নির্দেশনা অনুযায়ী নমুনা গ্রহণ করেছে। ভারত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সে দেশের একজন সম্পদ। এই পরিস্থিতিতে তাকে মানসিকভাবে সহায়তা করা হবে। তিনি যেন একা অনুশীলন করতে পারেন সেই ব্যবস্থা থাকবে। তার বয়স ২৭ বছরের কম, ফলে আর দেড় বছর পর হলেও যেন খেলায় ফিরতে পারে।’

Exit mobile version