লন্ডনের রাস্তায় কি আরও একটি উৎসবের আমেজ ছড়াতে যাচ্ছে, নাকি ইউরোপীয় ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখবে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)? প্যারিসের ক্লাবটির সামনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি ঘরে তোলার সুযোগ অন্যদিকে, তুলবে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)?
বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে গানার্স ও পিএসজি। দুই ক্লাবের জন্যই এই ফাইনাল কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং ক্লাবের ইতিহাস নতুন করে লেখার এক মহাকাব্যিক লড়াই।
আর্সেনালের অধরা স্বপ্ন বনাম পিএসজির রাজত্ব ধরে রাখার মিশন
মিকেল আরতেতার অধীনে আর্সেনাল এই মৌসুমেই ২০০৪ সালের পর তাদের প্রথম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয় করেছে। এবার স্প্যানিশ এই কোচের সামনে সুযোগ রয়েছে ২০০৬ সালের প্যারিসের সেই ফাইনালের ক্ষত ভোলার। সেবার বার্সেলোনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গানার্সদের হৃদয় ভেঙেছিল, যা আর্সেন ওয়েঙ্গারের ‘ইনভিন্সিবল’ দলও জেতাতে পারেনি। ঠিক ২০ বছর পর ক্লাবটি আবারও ইউরোপের সর্বোচ্চ মুকুটের খুব কাছাকাছি।
অন্যদিকে, শিরোপাধারী পিএসজি এই ট্রফিটি ধরে রাখার জন্য মরিয়া। চ্যাম্পিয়নস লিগের আধুনিক যুগে জিনেদিন জিদানের রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়তে চায় লুইস এনরিকের দল। ১৯৯২ সালের আগের ইউরোপীয় কাপের ইতিহাস ধরলে রিয়াল মাদ্রিদ, বেনফিকা, ইন্টার মিলান, লিভারপুল, আয়াক্স, বায়ার্ন মিউনিখ এবং এসি মিলানের মতো হাতেগোনা কয়েকটি অভিজাত দলই কেবল এই টানা শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছিল।
লুইস এনরিকে, যিনি ২০১৫ সালে বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতিয়েছিলেন, এবার জিতলে তিনি জিনেদিন জিদান, পেপ গার্দিওলা এবং বব পেসলির পাশে ৩ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী কোচ হিসেবে নাম লেখাবেন। গত মাসে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তাঁর দল ইতিমধ্যে নিজেদের আক্রমণভাগের বিধ্বংসী রূপ দেখিয়েছে।
বদলে যাওয়া আর্সেনাল ও ট্যাকটিক্যাল লড়াই
গত বছরের সেমিফাইনালে পিএসজি আর্সেনালকে দুই লেগেই হারিয়েছিল (এমিরেটসে ১-০ এবং পার্স দেস প্রিন্সেসে ২-১)। তবে আরতেতার দল এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আক্রমণাত্মক কিন্তু ধারাবাহিকতাহীন খেলার ধরন বদলে গানার্সরা এখন রক্ষণ ও আক্রমণের দুর্দান্ত এক ভারসাম্য তৈরি করেছে। এই টুর্নামেন্টে বল পজিশন ছাড়াও যে জেতা সম্ভব, তা তারা প্রমাণ করেছে।
তাছাড়া, ২০২৪ সালের অক্টোবরে লিগ পর্বের দেখায় এই বুদাপেস্টেরই পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজিকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল আর্সেনাল। দলটির ডেড-বল বা সেট-পিস থেকে গোল করার দারুণ দক্ষতা আজ এনরিকের ডিফেন্সের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ও দেম্বেলে
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার ও বর্তমান স্পোর্টস বিশ্লেষক মার্ক বসনিচের মতে, দুই দলেই বিশ্বমানের তারকার মেলা রয়েছে। আর্সেনালে যেখানে আছেন বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইস, মার্টিন জুবিমেন্ডি, গ্যাব্রিয়েল এবং এবার যোগ দেওয়া এবারিচি এজে; সেখানে পিএসজির শক্তি খভিচা কভারাতসখেলিয়া, আশরাফ হাকিমি, নুনো মেন্দেস, ভিতিনহা এবং জোয়াও নেভেস।
তবে পুরো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি বা ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হলেন ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা উসমান দেম্বেলে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গোলরক্ষক মার্ক বসনিচের বিশ্লেষণ অনুযায়ী:
“দেম্বেলে গত দুই বছর ধরে পিএসজির গেম-চেইঞ্জার। বার্সেলোনায় যা অসম্ভব ছিল, এনরিকে দেম্বেলের থেকে সেই সেরা পারফরম্যান্সটাই বের করে এনেছেন। দেম্বেলে ফিট হয়ে মাঠে নামলে পিএসজিই ফেভারিট হিসেবে ট্রফি ধরে রাখবে।”
তবে এই ভবিষ্যদ্বাণীতে একটি বড় শর্ত রয়েছে। ম্যাচের আগে দেম্বেলের একটি ইনজুরি শঙ্কা রয়েছে। বসনিচ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যদি ইনজুরির কারণে দেম্বেলে আজ মূল একাদশে খেলতে না পারেন, তবে তাঁর বাজি থাকবে আর্সেনালের দিকেই। আর তেমনটা হলে লন্ডনের রাস্তাঘাট যে কয়েকদিনের জন্য উৎসবে মেতে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।
উয়েফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই মেগা ফাইনালটি সেন্ট্রাল ইউরোপীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) শুরু হবে। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় ওঠে-লন্ডন নাকি প্যারিস? তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩



















